SIR
Bengal Liberty: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) ঘিরে ওবিসি শংসাপত্র (OBC certificate) সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন (Election commission)। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে বাতিল হওয়া কোনও ওবিসি সার্টিফিকেট SIR-এর কাজে ব্যবহার করা যাবে না—এ কথা জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ (SIR)
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Chief Electoral Officer) মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal) জানান, ২০১০ সাল পর্যন্ত রাজ্যে যেসব জনজাতি ওবিসি তালিকাভুক্ত ছিল, কেবলমাত্র তারাই SIR-এর শুনানিতে তাঁদের শংসাপত্র দাখিল করতে পারবেন। পরবর্তীকালে রাজ্য সরকার যে ১১৩টি জনজাতিকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করেছে, তাঁদের শংসাপত্র এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহ্য হবে না।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত ইস্যু হওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট কলকাতা হাইকোর্ট বাতিল করেছে। সেই নির্দেশ মেনেই কমিশন জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (DEO) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই সার্টিফিকেটগুলি SIR-এর কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ (SIR)
প্রসঙ্গত, গত বছরই কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২০১০ সালের পর যাঁদের ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের শংসাপত্র বাতিল করতে হবে। আদালত জানায়, ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত যে ৬৬টি জনগোষ্ঠী অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল, কেবলমাত্র তাদেরই স্বীকৃতি বৈধ।
এ দিকে, রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ায় মোট ১১টি নথিকে বৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ওবিসি সার্টিফিকেটও রয়েছে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। সেখানে দাবি করা হয়, ২০১০ সালের মার্চের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইস্যু হওয়া সব ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করা হোক।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজ্যের সব ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের নির্দেশ দিলেও, সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিষয়টি বর্তমানে শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে ওই সব সার্টিফিকেট যাতে SIR-এ গ্রাহ্য না হয়, সেই দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলেন মামলাকারীরা। কমিশন সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বিষয়টি ফের হাইকোর্টের বিচারাধীন হয়।
গত সপ্তাহেই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, তৃণমূল আমলে যাঁদের ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের শংসাপত্র SIR-এ গ্রহণযোগ্য হবে কি না—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। রাজ্য সরকার যে সব জনজাতিকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করেছিল, তা হাইকোর্ট বাতিল করায় সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। যদিও হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ রয়েছে, মূল মামলা এখনও বিচারাধীন। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
