Indore water contamination death
Bengal liberty Desk, ২ জানুয়ারি: মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের (Indore water contamination death) ভগীরথপুরায় (Bhagirathapura) রহস্যজনক অসুস্থতা ও মৃত্যুর নেপথ্যে যে ‘বিষাক্ত’ পানীয় জলই দায়ী, (Contaminated water behind death) তা স্পষ্ট হল গবেষণাগারের রিপোর্টে (Indore water contamination death)। শহরের একটি মেডিক্যাল কলেজের (Medical College) পরীক্ষাগারে পাঠানো পানীয় জলের নমুনা বিশ্লেষণে মারাত্মক দূষণের প্রমাণ মিলেছে। জাতীয় সংবাদসংস্থা সূত্রে এই তথ্য জানিয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও চিকিৎসক মাধব প্রসাদ (Madhav Prasad) বলেন, পানীয় জলের পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার ফলেই এই বিপর্যয় (Indore water contamination death)।
বিপত্তির সূত্রপাত (Indore water contamination death)

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, ভগীরথপুরার একটি থানার কাছে পানীয় জলের পাইপে ফাটল ধরা পড়ে। ঘটনাচক্রে, ওই পাইপলাইনের ঠিক উপরেই একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। পাইপ ফেটে যাওয়ায় শৌচাগারের নোংরা জল চুঁইয়ে পানীয় জলের সঙ্গে মিশে যায়। সেই দূষিত জল পান করেই এলাকায় ডায়েরিয়ার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ঘটে।
এই ‘বিষাক্ত’ জল পান করার জেরে এখনও পর্যন্ত ভগীরথপুরায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০০ জনে। তাঁদের মধ্যে দুশোরও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতি সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ৩২ জনের- তাঁরা বর্তমানে আইসিইউয়ে (ICU)ভর্তি।
পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের নজরদারি (Indore water contamination death)
অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সঞ্জয় দুবে (Sanjay Dubey) জানিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতির উপর প্রশাসন কড়া নজর রাখছে। ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামত করা হয়েছে এবং এলাকায় আবার পরিষ্কার জল সরবরাহ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনের অন্য কোথাও ফাটল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাবাসীদের পান করার আগে জল ভাল করে ফুটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের (Chief Minister Mohan Yadav) নির্দেশে মুখ্যসচিব নিজে ভগীরথপুরায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে গোটা ঘটনাক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মানবাধিকার কমিশনের নোটিস (Indore water contamination death)
ইতিমধ্যেই ইন্দোরের (Indore water contamination death) এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রাজ্য সরকারকে নোটিস পাঠিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই এলাকায় দূষিত পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছিল। অনেকের পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাবসহ নানা উপসর্গ দেখা দিলেও প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কেন সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, কেন বাসিন্দাদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হল না- সেই প্রশ্নেরই উত্তর চেয়েছে কমিশন (Indore water contamination death)।

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী (Indore water contamination death) নিজে ইন্দোরের বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থদের সঙ্গে দেখা করেন এবং একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগীরথপুরার ১৭১৪টি বাড়িতে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। মোট ৮৫৭১ জনের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৩৩৮ জনের শরীরে ডায়েরিয়ার মৃদু উপসর্গ ধরা পড়েছে (Indore water contamination death)।
ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মন্ত্রীর বাগবিতণ্ডা (Indore water contamination death)
ঘটনাচক্রে, যে ভগীরথপুরায় এই ডায়েরিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, সেই এলাকা রাজ্যের আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের (Kailash Vijayvargiya) বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। বুধবার রাতে এক সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক তাঁর কাছে প্রশ্ন করেন- কেন অসুস্থদের চিকিৎসার খরচ দেওয়া হচ্ছে না এবং কেন পরিস্রুত জল সরবরাহ করা হয়নি? সেই প্রশ্নে মেজাজ হারিয়ে মন্ত্রী সাংবাদিককে বলেন, “তাতে ঘন্টা হয়েছে।” এই মন্তব্য ঘিরে সাংবাদিকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা জলবিপর্যয়ের ঘটনাকে ছাপিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে (Indore water contamination death)।
ভগীরথপুরার এই পানীয় জল সংকট এখন কেবল জনস্বাস্থ্যের বিপর্যয় নয়, প্রশাসনিক গাফিলতি ও দায়বদ্ধতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে (Indore water contamination death)।
