Harinaghatta political violence
Bengal Liberty, Kolkata:
রাজ্যে ভোটের আবহের মধ্যেই ফের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগে সরগরম নদিয়ার হরিণঘাটা (Harinaghatta political violence)। কেন্দ্রবিন্দুতে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের টাকা। অভিযোগ, সেই টাকা পাওয়াকেই কেন্দ্র করে এক বিজেপি কর্মীর মেয়েকে হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করায় সংশ্লিষ্ট বিজেপি কর্মীকেও রাস্তায় ঘিরে মারধর ও অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।

ঘটনার সূত্রপাত কোথায়? Harinaghatta political violence
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিণঘাটা বড়জাগুলি এলাকার এক বিজেপি কর্মীর মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সম্প্রতি রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের টাকা জমা পড়ে। অভিযোগ, এই তথ্য জানার পরই মেয়েটির ফোনে যোগাযোগ করেন হরিণঘাটা পুরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর হারাধন ঘোষ। আর তারপরই ফোনেই শুরু হয় প্রশ্নবাণ এবং পরবর্তীতে তা গড়ায় হুমকি ও গালিগালাজে।
মেয়েকে হুমকি, বাবার উপর হামলা
অভিযোগ এখানেই থেমে থাকেনি। বিজেপি কর্মীর দাবি, শুধু মেয়ে নয় তাকেও ওই ঘটনার পরদিন রাস্তায় ডেকে দাঁড় করান ওই কাউন্সিলর। এরপর প্রকাশ্যে গালিগালাজ, চড়-থাপ্পড়, লাথি-ঘুষি মারার পাশাপাশি তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এমনকি প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। উল্লেখ্য , এই ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্টভাবে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। প্রশ্ন এড়িয়ে যান সরাসরি।
ভিডিও ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য
ঘটনার একটি ভিডিও সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পাশাপাশি সমাজ মাধ্যমে ও এই ভিডিও ভাইরাল হয়, ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেলেও যদি সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হেনস্তা হতে হয়, তাহলে তা গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়াবহ সংকেত।
পুরপ্রধানের প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে হরিণঘাটা পুরসভার পুরপ্রধান দেবাশিস বসু জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর কথায়, অভিযোগ অনেক সময় ওঠে, কিন্তু তা যাচাই করাই প্রধান কাজ। তবে এই ঘটনার পর হরিণঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত বিজেপি কর্মী। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
ভোটের আগে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, সরকারি প্রকল্প কী সত্যিই সবার জন্য, নাকি রাজনৈতিক রঙ দেখে সুবিধা ও আচরণ নির্ধারিত হচ্ছে? বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করছে, ভিন্ন রাজনৈতিক মত থাকলেই সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, নদিয়ার এই ঘটনা ভোটের আগে শাসক শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে এবং প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা নেয় এই বিষয়ে।
