Snigdhajit Bhowmik Issue
Bengal Liberty, Kolkata: রাজ্য সরকারের আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন উঠলো । মেদিনীপুরে সরকারি সৃষ্টিশ্রী মেলায় জনপ্রিয় গায়ক স্নিগ্ধজিৎ ভৌমিককে(Snigdhajit Bhowmik Issue) প্রকাশ্যে অপমান ও হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল সাংস্কৃতিক মহল। মঞ্চেই আয়োজকদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন শিল্পী, যার জেরে বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে অনুষ্ঠান।

কী ঘটেছিল মঞ্চে?(Snigdhajit Bhowmik Issue)
বুধবার রাতে মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর হলে চলছিল রাজ্য সরকারের তৃতীয় বর্ষের আঞ্চলিক সৃষ্টিশ্রী মেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান গাইতে গাইতে স্নিগ্ধজিৎ ভৌমিক ভক্তদের কাছে নেমে আসেন—এই সময়েই মেলা কর্তৃপক্ষ তাঁকে স্টেজে ফিরে যেতে নির্দেশ দেন। অভিযোগ, সেই নির্দেশ দেওয়ার ভাষা ও আচরণ ছিল চরম অসম্মানজনক। এরপরেই মঞ্চে উঠে গান থামিয়ে দেন শিল্পী, ব্যান্ড সদস্যদের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ করতে বলেন এবং প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন। কিছু সময়ের জন্য অনুষ্ঠান স্তব্ধ হয়ে যায়। যদিও পরে তিনি ফিরে এসে গান শেষ করেন।
মঞ্চ থেকেই প্রতিবাদ(Snigdhajit Bhowmik Issue)
মাইক হাতে স্নিগ্ধজিৎ বলেন,
“আমাকে ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়েছে অন্যায় করলে মাথা নত করব, কিন্তু অন্যায় না করলে কারও সামনে মাথা ঝোঁকাবো না। আজও তাই বলছি আপনি যেই হোন, আপনার কথা বলার ধরন অত্যন্ত খারাপ ছিল। এই অপমান আমি মেনে নেব না।”
ঘটনাস্থলে আবেগতাড়িত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী। এমনকি টাকা ফেরত দেওয়ার কথাও বলেন তিনি যদিও আয়োজকরা সেই দাবি অস্বীকার করেছেন।
মেলার আয়োজক তথা জেলাশাসক (গ্রাম উন্নয়ন) গোবিন্দ হালদারের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণেই শিল্পীকে স্টেজে থাকতে বলা হয়েছিল। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন নিরাপত্তার নামে শিল্পীকে অপমান করার অধিকার কি শাসকদলের আছে?
এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। গত মাসেই পূর্ব মেদিনীপুরে লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে স্কুলের অনুষ্ঠানে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। তার আগে মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়ও মঞ্চে অপমানের শিকার হওয়ার কথা জানান। একটার পর একটা ঘটনায় স্পষ্ট যেসব শিল্পী শাসকদলের প্রচার, কর্মসূচি বা রাজনৈতিক লাইনে থাকেন না, তাঁদের ক্ষেত্রেই বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

তৃণমূল আমলে শিল্পী কি নিরাপদ?(Snigdhajit Bhowmik Issue)
সরকারি মঞ্চে যদি একজন জনপ্রিয় শিল্পীকে প্রকাশ্যে অপমান সহ্য করতে হয়, তাহলে সাধারণ শিল্পী বা নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়? এটাই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে প্রশাসনের আসল মুখ?
আইনশৃঙ্খলা, সম্মান, মতপ্রকাশ সবই কি এখন শাসকদলের অনুগত হওয়ার শর্তসাপেক্ষ?
তবে প্রশ্ন উঠছেই আর কত শিল্পীকে এভাবে চুপ করিয়ে দেওয়া হবে? আর কতদিন প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এই অপমান চলবে?

