Amit Shah vs Abhishek Banerjee
Bengal Liberty: আনন্দপুরের ওয়াও মোমো কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে ফের প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় যেখানে গোটা রাজ্য জবাব চাইছে, সেখানে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে উঠে আসছে দায় এড়ানোর প্রবণতা ও রাজনৈতিক ধোঁয়াশা (Amit Shah vs Abhishek Banerjee)।

অমিত শাহের বিস্ফোরক অভিযোগ (Amit Shah vs Abhishek Banerjee)
ব্যারাকপুরের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রকৃত অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন
“এপ্রিলের পর বিজেপি সরকার এলে, এই ঘটনায় যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”
শাহের দাবি, শিল্পপতি-ঘনিষ্ঠতার জোরেই অভিযুক্তদের আড়াল করা হচ্ছে এবং প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্তকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

অভিষেকের পাল্টা মন্তব্যে ক্ষোভ
এই গুরুতর অভিযোগের জবাবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাষা ব্যবহার করেন, তা আরও বিতর্ক সৃষ্টি করেন । মৃতদের পরিবারের যন্ত্রণা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে “মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি” করার অভিযোগ তোলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এ ধরনের মন্তব্য আসলে ঘটনার গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা, যা শাসকদলের দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাবকেই সামনে আনে।
শুধু তাই নয় অভিষেক বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে বলেন, আনন্দপুরের ঘটনার দায় যদি বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিতে চায়, তবে এসআইআরে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর দায়ও বিজেপিকে নিতে হবে।
গ্রেফতার হলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে
অভিষেক দাবি করেন, ঘটনার পরেই কারখানার মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে
কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায় কার? দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে এমন একটি গোডাউন নজর এড়িয়ে চলল?
প্রভাবশালীদের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি?
এই প্রশ্নগুলির কোনও স্পষ্ট উত্তর রাজ্য সরকারের তরফে এখনও মেলেনি।
দায় এড়ানোর রাজনীতি?
অভিষেকের বক্তব্যে বারবার কেন্দ্র, বিজেপি এবং অতীতের প্রসঙ্গ টেনে আনা হলেও, বর্তমান প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নেওয়ার মানসিকতা দেখা যায়নি বলেই অভিযোগ বিরোধীদের। আনন্দপুরের ঘটনায় দায় এড়াতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর, আরজি কর মামলার মতো ভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে আনেন যা মূল প্রশ্ন থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
আনন্দপুরের এই ঘটনা শুধুই একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং রাজ্যের শাসনব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন। বিরোধীদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে অনুশোচনা নয়, বরং আত্মরক্ষার রাজনীতিই বেশি স্পষ্ট।
