Postal Ballot controversy
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই বিতর্ক তৈরি হল Postal Ballot controversy। ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সের এক কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করল লালবাজার।

ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে সাসপেন্ড পুলিশকর্মী Postal Ballot controversy
শনিবার কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনারের দপ্তর থেকে এই সাসপেনশনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, চলতি ভোটপর্ব সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই কনস্টেবলকে সাসপেনশনে থাকতে হবে। সাসপেন্ড হওয়া পুলিশ কর্মীর নাম মাসুদ করিম। তিনি কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সে কর্মরত ছিলেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাসপেনশন চলাকালীন নিয়ম অনুযায়ী তিনি আপাতত তাঁর বেতনের অর্ধেক পাবেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছে পুলিশ মহল।
সূত্রের খবর, মাসুদ করিম আগে ভবানীপুর এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশকর্মীদের রদবদল করা হয়। সেই রদবদলের জেরেই তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া মহকুমাশাসকের দপ্তরে বদলি করা হয়। বর্তমানে সেখানে পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণের কাজ চলছিল।
দ্রুত পদক্ষেপ লালবাজারের
গত ১৩ তারিখ থেকে রাজ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মূলত সরকারি কর্মচারী, নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এই পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে থাকেন। অভিযোগ উঠেছে, হলদিয়া মহকুমাশাসকের দপ্তরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট চলাকালীন মাসুদ করিম কিছু ভোটারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করা হচ্ছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পরই দ্রুত পদক্ষেপ করে লালবাজার। নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং কোনওরকম বিতর্ক এড়াতেই তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তও শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, বঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বিশেষ সতর্ক রয়েছে। ভোটপর্ব যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য মার্চ মাসের শুরু থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতিটি পদক্ষেপের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তার মধ্যেই এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এখন এই ঘটনাকে ঘিরে আরও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
