Partha Chatterjee on tmc
Bengal Liberty:
চতুর্দিক থেকে ভাঙন ধরেছে তৃণমূলে। ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে দলের নতুন শাখা। (Partha Chatterjee on tmc) তৃণমূলের চূড়ান্ত পরাজয়ের পর মুখ খুললেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। দলভাঙনের আবহে উগরে দিলেন দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। নেত্রীকে কটাক্ষ করতেও পিছপা হননি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের এই ভরাডুবির জন্য শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সমানভাবে দায়ী।

কটাক্ষের সুরে পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee on tmc)
দলের বর্তমান পরিস্থিতি ও অবনতির কারণ হিসেবে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের পাশে থাকতেন এবং তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু শেষদিকে এসে তিনি শুধু নিজের পরিবারকে রক্ষা করতেই ব্যস্ত ছিলেন।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আজ শুভেন্দু অধিকারী দলে থাকলে এই ভরাডুবি হতো না। বরং দল আরও বেশি সংগঠিত থাকত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই অভিষেককে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দলের পতনের অন্যতম কারণ তাঁর অন্ধ স্নেহ। রাস্তা বন্ধ করে রাজপুত্রের মতো প্রচার চালানোর যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার প্রশ্রয়ও অভিষেক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকেই পেয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, পরাজয়ের পর বহু বিধায়ক ও সাংসদ অভিষেককে দায়ী করছেন। অথচ বিগত বছরগুলোতে অন্যায় দেখেও তাঁরা পদ হারানোর ভয়ে মুখ খোলেননি। একইসঙ্গে আইপ্যাক এবং অভিষেকের তথাকথিত কর্পোরেট সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, “আইপ্যাক শুধু ব্যবসা করেছে, দলের সাংগঠনিক ভিত দুর্বল করেছে। আইপ্যাককে সামনে রেখে অভিষেকের দল পরিচালনাই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল।”

‘ছাঁটাইয়ের রাজনীতি’
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, দলের পুরনো ও বিশ্বস্ত নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী, সোনালী গুহের মতো বহু অভিজ্ঞ নেতাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের রাজনীতিই দলের শিরদাঁড়া ভেঙে দেওয়ার অন্যতম কারণ।”
তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কারও মতামতকে গুরুত্ব দেননি। মদন মিত্রের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের পরামর্শও উপেক্ষিত হয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি একমাত্র মদন মিত্রেরই পাওয়া উচিত ছিল।
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে অভিমত
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সহকর্মী ছিলেন। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার প্রতি আস্থা রেখে পার্থ বলেন, “শুভেন্দু যেন এটাকে ২০ ওভারের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ভেবে না খেলেন। তিনি সংগঠন করে মাঠ থেকে উঠে আসা মানুষ। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতাও পাবেন। আমাদের ১৫ বছরের সরকারের মধ্যে প্রায় ১৩-১৪ বছর তিনি মন্ত্রী ছিলেন। তিনি প্রতিটি জেলা চেনেন এবং প্রশাসনিক কাজও ভালো বোঝেন।”
তবে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “দলের ভেতরে থাকা দ্বিমুখী নেতাদের আগে সরাতে হবে এবং পুরনো, সৎ কর্মীদের আবার দলে ফিরিয়ে আনতে হবে। তবেই দল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।”

