Calcutta High court
Bengal Liberty, ৩ জুন :
সল্টলেকের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুন মামলায় তদন্তের গাফিলতি নিয়ে এবার সরব কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সুপ্রিম কোর্টের জামিন খারিজের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন অভিযুক্ত রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়। মামলার তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি, চার্জশিটে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা এবং তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যের ডিজিপিকে বিভাগীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে অভিযুক্ত সজল সরকারের জামিনের আবেদনও খারিজ করেছে হাইকোর্ট। পাশাপশি প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।

চার্জশিটে তথ্য গোপনের অভিযোগ (Calcutta High Court)
হাইকোর্টে শুনানির সময় বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় প্রশ্ন করেন, অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত ফরচুনার গাড়ির সূত্রে বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম উঠে আসার পরও কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি? আদালতের পর্যবেক্ষণ, চার্জশিটে অভিযুক্ত বিডিওর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও উল্লেখ নেই। তিনি পলাতক, নাকি তদন্তের আওতায়? কোনও সঠিক তথ্য নেয়। আদালতের মতে, তদন্তকারী অফিসার আইন মেনে কাজ করেননি এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি। সেই কারণেই তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপের রিপোর্ট হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে রাজ্যের ডিজিপিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় বিডিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক (Calcutta High Court)
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছি এলাকার খালপাড় থেকে উদ্ধার হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের বাসিন্দা ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ। অভিযোগ, সল্টলেকের দত্তাবাদ এলাকার দোকান থেকে তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয়। মৃতের পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি এবং দাবি করেছেন তাঁকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ফাঁসানো হচ্ছে। সম্প্রতি ইকোপার্ক থানায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারির মতো কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে। আদালতও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অভিযুক্ত বিডিওর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেই তারা রাজ্যের পুলিশের শীর্ষ কর্তার কাছে প্রত্যাশা রাখছে।

