Mamata Banerjee Delhi visit
Bengal Liberty, ২ ফেব্রুয়ারি, দিল্লি : নির্বাচন কমিশনের(Mamata Banerjee Delhi visit) সঙ্গে বৈঠক শেষ করেই ফের বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে বসে নির্বাচন কমিশনকে একের পর এক কটাক্ষ করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ালেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার(Mamata Banerjee Delhi visit) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বয়কট করে মমতা নির্বাচন কমিশনকে ‘অহংকারী’ ও ‘মিথ্যেবাদী’ বলে আক্রমণ করেন।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Mamata Banerjee Delhi visit)
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “ নির্বাচন কমিশন বিজেপির নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে “। দিল্লির রাস্তায় কালো শাল জড়িয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগড়ে দেন মমতা।

ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতাবাসীর প্রশ্ন (Mamata Banerjee Delhi visit)
প্রশ্ন উঠছে – যখন কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলার অবনতি চরমে, তখন মুখ্যমন্ত্রী কেন দিল্লিতে রাজনৈতিক নাটকে ব্যস্ত? কলকাতার রাস্তায় গুলি চলছে, রাজ্যে নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে, অথচ মুখ্যমন্ত্রী ভোট রাজনীতির স্বার্থে দিল্লিতে আন্দোলনের আবহ তৈরি করছেন।
দিল্লিতে গিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মনোভাব ছড়িয়েছেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন দ্বারা পরিচালিত। বিজেপির ষড়যন্ত্রে সব নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
তবে কি শুধুই লক্ষ্য ভোট আদায়? (Mamata Banerjee Delhi visit)
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আনন্দপুরের ঘটনাকে ঘিরে। অভিযোগ, সেখানে ২৭ জন কর্মী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেলেও মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভূতির কোনও চিহ্ন দেখা যায়নি। বিরোধীদের দাবি, “ভোটারই যদি সব হয়, তবে রাজ্যের মৃত মানুষগুলোর কান্না কি মুখ্যমন্ত্রীর মন গলাতে পারেনি?”
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যকলাপে বিরোধীদের বক্তব্য (Mamata Banerjee Delhi visit)
বিজেপির মতে, SIR ইস্যুকে সামনে রেখে ভোটব্যাংক রক্ষার জন্যই দিল্লি যাত্রা এবং নির্বাচন কমিশনের উপর লাগাতার আক্রমণ। রাজ্যের বাস্তব সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে টার্গেট করছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—এটা কি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই, নাকি শুধুই ভোটের অঙ্কে সাজানো রাজনৈতিক নাটক? রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি কি আদৌ মুখ্যমন্ত্রীর অগ্রাধিকার তালিকায় আছে?
