Women Safety Initiative Kolkata
Bengal Liberty, Kolkata:
কলকাতায় নারী সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে ‘পিঙ্ক বুথ’ ও ‘শাইনিং’ নামে নতুন দুই উদ্যোগের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়(Women Safety Initiative Kolkata)। তবে বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন এতদিন পর এই পদক্ষেপ কেন? শহরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর চাপ সামলাতেই কি এই উদ্যোগ শাসকদলের?

কী থাকছে নতুন ব্যবস্থায়? Women Safety Initiative Kolkata
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হবে মহিলা পরিচালিত ‘পিঙ্ক বুথ’। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেখানে মহিলা পুলিশকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি রাতের ব্যস্ত রাস্তায় ঘুরবে বিশেষ মহিলা মোবাইল টহলদারি দল ‘শাইনিং’। ইএম বাইপাস-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে নজরদারি বাড়ানো হবে।

কী এই ‘পিঙ্ক বুথ’? Women Safety Initiative Kolkata
শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত এলাকাগুলিতে বসানো হচ্ছে ‘পিঙ্ক বুথ’। সম্পূর্ণভাবে মহিলা পুলিশকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত এই বুথে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপস্থিত থাকবেন আধিকারিকেরা। কোনও সমস্যায় সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন মহিলারা। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক সহায়তা বা আইনি পদক্ষেপের ব্যবস্থা করা হবে।
রাতে রাস্তায় ‘শাইনিং’
নারী সুরক্ষার দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ মহিলা মোবাইল প্যাট্রল টিম ‘শাইনিং’। শনিবার রাত থেকেই টহল শুরু হয়েছে। রাত ৮টা থেকে ২টো পর্যন্ত শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বিশেষ করে ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালাবে এই দল। কর্মসূত্রে বা অন্য কারণে গভীর রাতে বাইরে থাকা মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।
হঠাৎ সক্রিয়তা কেন?
গত কয়েক মাসে একাধিক ঘটনায় শহরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও প্রশাসনিক শৈথিল্যের পর ভোটের মুখে এসে তৎপরতা বেড়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, “ঘোষণার রাজনীতি” দিয়ে বাস্তব সমস্যাকে ঢাকার চেষ্টা করছে শাসকদল। অন্যদিকে রাজ্যে পুলিশ কমিশনার পদে রদবদল করে Supratim Sarkar-কে দায়িত্ব দেওয়ার পর নজরদারি বাড়ানোর বার্তা সামনে এসেছে। তবে প্রশ্ন রয়ে যায় এই তৎপরতা কি স্থায়ী, না কি নির্বাচনী আবহেই সীমাবদ্ধ?
উল্লেখ্য নারী নিরাপত্তা কোনও রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন। তাই উদ্যোগের ঘোষণা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি জরুরি দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন। ভোটের আবহ কেটে গেলে এই পরিকল্পনাগুলি কতটা কার্যকর থাকে সেই উত্তরই দেবে প্রকৃত পরিস্থিতি।
