Mojtaba Khamenei Fake death news
Bengal Liberty, কলকাতা, ১৩ মার্চ ২০২৬
আয়াতোল্লাহ খামেনেইয়ের প্রয়াণের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। একের পর এক ড্রোন হামলা আর ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জনে কেঁপে উঠছে ইরান(Mojtaba Khamenei Fake death news) ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। সাধারণ মানুষের চোখেমুখে কেবলই ধ্বংসের আতঙ্ক। এই চরম অস্থিরতার মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্ব রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য সান’-এর একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল তীব্র ধোঁয়াশা। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন খামেনেই পুত্র তথা নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই।

গুজব বনাম বাস্তবতা: বেঁচে আছেন মোজতবা (Mojtaba Khamenei Fake death news)
গতকাল ‘দ্য সান’ তাদের এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছিল যে, মার্কিন মিসাইল হামলায় মোজতবা খামেনেই নিহত হয়েছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান থেকে সরকারি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, মোজতবা খামেনেই সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং জীবিত আছেন। ইরান সরকার একে “আমেরিকা ও ইসরায়েলের ছড়ানো মিথ্যা প্রোপাগান্ডা” বলে অভিহিত করেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরণের গুজব রটানোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে চরম শাস্তি পেতে হবে।

শহীদদের মৃত্যু বিফলে যাবে না: মোজতবার বার্তা (Mojtaba Khamenei Fake death news)
জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে এবং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে সম্প্রতি একটি স্থানীয় সরকারি টিভি চ্যানেলে অডিও বার্তা দিয়েছেন মোজতবা খামেনেই। সেখানে তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠেছে চরম প্রতিশোধের সুর। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত আমরা বড় কোনো পদক্ষেপ নিইনি, কিন্তু এবার প্রতিশোধের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়বে। আমাদের সেনাকর্তা ও শহীদদের আত্মত্যাগ আমরা বিফলে যেতে দেব না।”
মোজতবা তাঁর বার্তায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রতিবেশী দেশ মুখে বন্ধুত্বের কথা বললেও তারা আদতে আমেরিকাকে সাহায্য করছে এবং নিজেদের মাটিতে মার্কিন সেনা ছাউনি করার অনুমতি দিয়েছে। মোজতবার ভাষায়, “এর ফল তো তাদের ভুগতেই হবে। আমরা বাধ্য হয়েই হামলা চালিয়েছি এবং যতদিন আমেরিকা ও ইসরায়েলের আগ্রাসন থামবে না, ততদিন আমাদের লড়াই চলবে। আত্মসমর্পণ আমাদের অভিধানে নেই।”

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় হুঁশিয়ারি (Mojtaba Khamenei Fake death news)
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে মোজতবা খামেনেইর অবস্থান এখন আরও কঠোর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই লাইফলাইন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। মোজতবা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “যতদিন না ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আক্রমণাত্মক মনোভাব বন্ধ হবে, ততদিন হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। আমরা কারও সঙ্গে শত্রুতা চাই না, কিন্তু ছোট ছোট শিশুদের মৃত্যু দেখে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না।”
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন লাগা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধস নামা। ইরান এই কৌশলগত অবস্থানকে যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

ট্রাম্পের পালটা চ্যালেঞ্জ ও কিসিঞ্জারের সেই অমোঘ বাণী (Mojtaba Khamenei Fake death news)
মোজতবার এই বিবৃতির পর চুপ করে বসে নেই হোয়াইট হাউসও। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, ইরান এই যুদ্ধ বেশিদিন টেনে নিয়ে যেতে পারবে না। তাদের পরাজয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
Suvendu meets Governor: রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ শুভেন্দু অধিকারীর! রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নে হস্তক্ষেপের আর্জিhttps://t.co/2NtzCOMi1h বিস্তারিত পড়ুন লিংকে ক্লিক করে@bengalliberty @SuvenduWB @BJP4India @BJP4Bengal #suvenduadhikari #BJP #governor pic.twitter.com/JcnRioh0fo
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 13, 2026
এই গোটা পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রাক্তন মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারের সেই বিখ্যাত সতর্কতা। তিনি বলেছিলেন, “আমেরিকার শত্রু হওয়া বিপজ্জনক, কিন্তু বন্ধু হওয়া প্রাণঘাতী।” আজকের মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব, বাহরাইন বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো কিসিঞ্জারের সেই বাণীর মর্ম হাড়েই হাড়েই টের পাচ্ছে। একদিকে ইরানের রোষ, অন্যদিকে আমেরিকার স্বার্থ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলো।
এখন দেখার বিষয়, তেহরানের এই চরম প্রতিশোধের ডাক আর ওয়াশিংটনের অনমনীয় মনোভাব শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয় কি না। সাধারণ মানুষ এখন কেবল শান্তির প্রার্থনায় দিন গুনছে।
আরও পড়ুন :
Middle East war: কেন্দ্র সরকারের সাহায্যে চরম সংকটের মধ্যে দেশে ফিরলেন ৭০০ ভারতীয় নাগরিক
