Humayun files case in HC
Bengal Liberty, ৯ এপ্রিল :
ভোটের লড়াইয়ে নতুন অস্ত্র ‘এআই’? প্রযুক্তিকেই কি এবার হাতিয়ার করছে তৃণমূল!(Humayun AI video Controversy) নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে এবার তৃণমূল হাতিয়ার বানাচ্ছে হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিও। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা তথা ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের একটি ‘গোপন’ ভিডিও প্রকাশ করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে তৃণমূল। এই ভিডিও সামনে এনে তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি আক্রমণের সুর চড়ালেও, অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা মাঠে নেমেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, পুরো ভিডিওটি ‘কৃত্রিম মেধা’ বা এআই ব্যবহার করে তৈরি একটি ভুয়ো প্রচার, যার মাধ্যমে নির্বাচনের আগে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, ভিডিওর সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। অপরদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ” মমতার বি টিম আম জনতা পার্টি, এটি এআই (AI) বা আই-প্যাকের তৈরি কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।” তবে তৃণমূলের সাম্প্রতিক এই হাতিয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, কোনোভাবে মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক হারানোর ভয় পাচ্ছে তৃণমূল (Humayun AI video Controversy)?

তৃণমূলের প্রকাশ করা ভিডিওতে কী আছে? (Humayun AI video Controversy)
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে একটি ১৯ মিনিটের ভিডিও, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ভিডিওতে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাঁতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনে কোনও দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তিনি বিজেপিকে সমর্থন করতে পারেন এবং তার বিনিময়ে প্রায় ১০০০ কোটি টাকার একটি ‘ডিল’-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে। ভিডিওটিতে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাদের নামও উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।তৃণমূলের অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোট কেনাবেচার ছক কষেছেন হুমায়ুন।

হুমায়ুনের বক্তব্য (Humayun AI video Controversy)
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে তিনি এটিকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, “রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়ো, এআই দিয়ে তৈরি।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “১০০০ কোটি তো দূরের কথা, ১ কোটি টাকারও কোনও লেনদেনের প্রমাণ যদি দেখাতে পারে, আমি সমস্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব।” পাল্টা হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ সামনে না এলে মানহানির অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।
সংখ্যালঘু ভোটে ধাক্কা খাওয়ার ভয়? (Humayun AI video Controversy)
তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘রাজনৈতিক আতঙ্ক’-এর বহিঃপ্রকাশ বলেই দাবি করেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, এতদিন সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে ভরসা করে রাজনীতি চালালেও এবার সেই সমীকরণে ফাটল ধরেছে, আর সেটাই শাসকদলের উদ্বেগের মূল কারণ। হুমায়ুনের কথায়, “সংখ্যালঘুরা এবার আর চোখ বন্ধ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিচ্ছে না। আমার সভায় যে বিপুল জনসমাগম হচ্ছে, তা দেখেই তৃণমূল ভয় পেয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেই ভয় থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ‘এআই’-এর মতো প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করা হয়েছে। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এই ভিডিওর সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে, মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করব।”

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য (Humayun AI video Controversy)
এই ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মমতার বি টিম আম জনতা পার্টি, হুমায়ুন কবিরের একটি ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এআই (AI) বা আই-প্যাকের তৈরি কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। তিনি এই ঘটনার জন্য সিবিআই (CBI) এবং সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবে তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার যদি স্বচ্ছ হয়, তবে তাদের উচিত সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করা। শুভেন্দু অধিকারী কঠোর ভাষায় বলেন, “আমাদের সিঙ্গেল পয়েন্ট এজেন্ডা-আমরা এখানে বাবরের নাম লিখতে দেব না।” তিনি মোগল ও পাঠানদের ভারতের লুটেরা হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে তারা মন্দির ভেঙেছে ও ধর্ম পরিবর্তন করিয়েছে। হিন্দুরা মন্দির বানাক বা মুসলমানরা মসজিদ-তাতে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু বাবরের নামে কিছু হওয়া তিনি মানবেন না।
আরও পড়ুন :

