Mamata Banerjee on Malda incident
Bengal Liberty, ২ এপ্রিল :
মালদার অশান্তি নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee on Malda incident)। মালদার ঘটনার প্রসঙ্গে সাগরদিঘির জনসভা থেকে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির পাশাপশি বাদ দিলেন না তৃণমূল বহিষ্কৃত হুমায়ুনের নব গঠিত AJUP-। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনাকে ঘিরে গতকাল, বুধবার থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। একদিকে বিজেপির দাবি, এসআইআর নিয়ে শাসক দলের নেতাদের ধারাবাহিক উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরেই কালিয়াচকের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অপরদিকে ঘটনায় অভিযোগের তীর বিঁধলেন বিজেপির দিকে। তৃণমূল নেত্রীর মতে, মালদার ঘটনার কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্ত (Mamata Banerjee on Malda incident)।

মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ (Mamata Banerjee on Malda incident)
সাগরদিঘির সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মালদার অশান্তি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয়, বরং তা একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্ত। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির লক্ষ্য রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করা এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ যেন প্ররোচনায় পা না দেন। তাঁর কথায়, এই ধরনের অশান্তি ছড়িয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করার চেষ্টা চলছে। মালদা পরিস্থিতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকেও সমর্থন করেন তিনি, এবং জানান আদালতের মন্তব্য যথার্থ।

ওয়েইসি-হুমায়ুন জোটে কটাক্ষ (Mamata Banerjee on Malda incident)
তারপরই বিজেপির দিক থেকে মোড় ঘুরিয়ে ঘটনার প্রেক্ষিতে আক্রমণ করলেন নব গঠিত আম জনতা পার্টি কেও। নাম না করে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এবং হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বাধীন AJUP শিবিরের দিকে। ‘হায়দরাবাদ থেকে আগত’নেতৃত্ব ও ‘গদ্দারদের মদত’-বলে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, “ওয়েইসিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “হায়দরাবাদ থেকে কেউ উড়ে এল আর বিজেপি কটা গদ্দারকে টাকা দিয়ে আপনাদের উত্তেজিত করল, রাস্তা অবরোধ করাল, বিচারকদের ঘেরাও করাল। ফলাফলটা কী হল?”
তারপরই তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন। প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনের কার্যকারিতা নিয়েও, রাস্তা অবরোধ বা বিচারকদের ঘেরাও করে সাধারণ মানুষের কী উপকার হল? উল্টে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষই, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরেও পড়তে হয়েছে অনেককে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন কড়া অবস্থান নেবে। অশান্তি রুখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে বলেও বার্তা দেন তিনি।
