Suvendu Samik
Bengal Liberty, ১ এপ্রিল :
নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে ফের রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানাল ভারতীয় জনতা পার্টি (Suvendu Samik )। আজ, হাই ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে ‘ঐতিহাসিক’ মিছিল করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পাশে নিয়ে ভবানীপুরে মনোনয়ন পত্র জমা দেন শুভেন্দু। তারপরই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে সাথে নিয়ে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে কালিয়াচক ও ভবানীপুরের ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরেন (Suvendu Samik )।

সুজাপুরের ঘটনা প্রসঙ্গ (Suvendu Samik)
মালদহের সুজাপুর ঘটনাকে কেন্দ্র সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাবিনা ইয়াসমিনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, সুজাপুরের ঘটনা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং কলকাতা থেকে পরিচালিত একটি সংগঠিত অপরাধ। শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এবং গত লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত সাবিনা ইয়াসমিনের তদারকিতে এই পুরো পরিকল্পনাটি করা হয়েছে।

মালদার ঘটনা প্রসঙ্গে শমীক (Suvendu Samik )
অপরদিকে,মালদার কালিয়াচকে বিচারপতিদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার শমীক ভট্টাচার্য বিষয়টিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে বলেন, “যে রাজ্যে বিচার ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়, সেখানে আইনের শাসন বলে কিছু থাকে না। উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত-সব স্তরের কর্মীরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিচারপতিদের উপর যে আক্রমণ চলেছে, তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার চরম লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, ” ভাষায় এক ভালোবাসা এক মানবতায় এক। আমরা বিনা সুতোয় রাখি বন্ধনের কারিগর।”

“আমরা নয়, তৃণমূলই মেরুকরণের রাজনীতি করে” – শুভেন্দু 9Suvendu Samik )
সম্প্রতি নন্দীগ্রামে বিজেপি করার অপরাধে রাকিবুল নামে এক ব্যক্তিকে মসজিদে ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং সামাজিক বয়কটের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “বিজেপি বিকাশের রাজনীতি করে, আমরা মেরুকরণের রাজনীতি করি না। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতেও বিজেপি করার অপরাধে পানীয় জল থেকে বঞ্চিত করা বা মসজিদে ঢুকতে বাধা দেওয়া মধ্যযুগীয় বর্বরতা।”
অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারকে “বাবরদের সরকার” এবং “মৌলবাদীদের সরকার” বলে তোপ দাগেন। তিনি সাফ জানান, “বাঙালি মুসলিমদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ নেই, কিন্তু মুক্তমনা মুসলিম ভাইদের ভাবতে হবে তাঁরা মৌলবাদকে সমর্থন করবেন কি না। আজ বাংলায় মা কালীকে অ্যারেস্ট করা হচ্ছে।”

ভবানীপুরের মিছিল প্রসঙ্গে একযোগে আক্রমণ শুভেন্দু শমীকের (Suvendu Samik )
ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মিছিলে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধেও সরব হয় উভয় বিজেপি নেতৃত্ব। কালীঘাট থানার ওসির নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানির কয়েকজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী যে আচরণ করেছে, তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কেন কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে না?”
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, চার দশকে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গে মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উন্মাদনা দেখা যায়নি। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এখন সময়ের অপেক্ষা।
Mamata র ‘গড়ে’ নিরাপত্তার অভাব বোধ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah | Bengal Liberty@SuvenduWB @AmitShah @BJP4Bengal @BJP4India #amitshahofficial #SuvenduAdhikari #bjpwestbengal #BengalLiberty pic.twitter.com/hW0Vv8C3kv
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 2, 2026
বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, পশ্চিমবঙ্গ কোনো ‘ধর্মশালা’ নয় যেখানে যে কেউ এসে নাম তুলবে। কালিয়াচকের ঘটনায় ১৮ জন গ্রেফতার হলেও, মূল ষড়যন্ত্রীরা এখনও ধরা পড়েনি বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বাংলার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করাই এখন কমিশনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়ছে নির্বাচন কমিশন। সব শেষে নির্বিঘ্নে ভোট করানোই টার্গেট নির্বাচন কমিশনের, ভোটার আগেই এত উত্তেজনার পরও নির্বাচন কমিশনের চেষ্টা কতটা সফল হয় সেটাই এখন দেখার।
