TMC Leader Threats
Bengal Liberty, Kolkata:
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিককালে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতার প্রকাশ্য হুমকি (TMC Leader Threats) ও উস্কানিমূলক মন্তব্য গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কলুষিত করছে বলে অভিযোগ উঠছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদ বা উত্তরবঙ্গ—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শাসকদলের নেতাদের যে ধরনের মন্তব্য সামনে আসছে, তা কেবল বিরোধী বিজেপি কর্মীদের জন্যই নয়, বরং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচন মানেই জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মুখে যে ভাষা শোনা গেছে, তা কার্যত ‘ভোটদান’ নয়, বরং ‘ভোট লুঠ’ বা ‘ভয় প্রদর্শনের’ নামান্তর।

মগরাহাট: এলাকা ছাড়ার ফরমান (TMC Leader Threats)
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে তৃণমূলের যুব সভাপতি ইমরান হাসান মোল্লা সরাসরি ভোটারদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, যারা তৃণমূলকে ভোট দেবে না, তাদের জন্য এলাকা নরক হয়ে উঠবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “যারা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, তাদের ভয়াবহ পরিণতি হবে। তৃণমূলকে ভোট না দিলে এলাকা ছেড়ে চলে যান।” এই ধরনের ফতোয়া সরাসরি ভারতের সংবিধানের দেওয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

মুর্শিদাবাদ: রাজু মণ্ডলের গ্রেফতারি (TMC Leader Threats)
মুর্শিদাবাদে তৃণমূল নেতা রাজু মণ্ডল লাউডস্পিকারে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে, বিজেপিকে একটিও ভোট দেওয়া যাবে না। এমনকি ভোট দিতে গেলে ঘর থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছিল বিরোধী সমর্থকদের। যদিও নির্বাচন কমিশনের তৎপরতায় রাজু মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কিন্তু এই মানসিকতা তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে কতটা শিকড় গেড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ক্যানিং: ‘স্টিম রোলার’ চালানোর হুমকি (TMC Leader Threats)
ক্যানিংয়ের জীবনতলায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান হাফিজুল মোল্লা আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি শারীরিক নিগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেন, “৪ঠা মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আমি বিরোধীদের ওপর দিয়ে স্টিম রোলার চালিয়ে দেব।” রাজনৈতিক বিরোধিতার উত্তর কি পেশীশক্তির প্রদর্শন দিয়ে হবে? এই প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের মনে। যদিও হাফিজুলকেও কমিশন এবং পুলিশের পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত শ্রীঘরে যেতে হয়েছে।

উত্তরবঙ্গ: ‘জবাই’ করার নিদান (TMC Leader Threats)
সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো মন্তব্য শোনা গেছে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার বা জলপাইগুড়ি সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে এক নেতার মুখে শোনা গেছে চরম হিংসাত্মক বাণী— “যেখানেই কোনো বিজেপি বা আরএসএস কর্মীকে দেখবেন, সেখানেই তাদের জবাই করবেন।” এই ধরনের উস্কানি সরাসরি দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি করে এবং জননিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে।

সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের উদ্বেগ (TMC Leader Threats)
তৃণমূলের এই একের পর এক হুমকিতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা। ২০১১-র পরিবর্তনের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যে ‘ভয়মুক্ত’ পরিবেশের আশা করা হয়েছিল, তা আজ প্রশ্নের মুখে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এখন সন্ত্রাস এবং হুমকির পথ বেছে নিয়েছে। ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথমুখী হতে বাধা দেওয়া হচ্ছে যাতে শাসকদল ছাপ্পা ভোটের মাধ্যমে বৈতরণী পার হতে পারে।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে পুলিশি নিরাপত্তা পৌঁছতে দেরি হয়, সেখানে এই হুমকিগুলো কেবল শব্দ নয়, বরং আসন্ন বিপদের সংকেত হিসেবে কাজ করছে। অনেক গ্রামেই বিরোধী কর্মীদের সামাজিক বয়কট বা শারীরিক নিগ্রহের ভয় দেখানো হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও CEO West Bengal-এর বার্তা (TMC Leader Threats)
রাজ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে জেলা সফরের ওপর জোর দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনি বলেন:

“আমরা যখন জেলাতে যাচ্ছি এটা দেখতে যে প্রস্তুতি কেমন আছে। আমি জেলাশাসককে বলেছি যে জেলায় আপনি বোধ করেন যে আমার যাবার প্রয়োজন আছে, সেখানে নিয়ে যাবেন আমাকে। যেখানে ‘পোস্ট পোল ভায়োলেন্স’ বা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা আগে হয়েছিল, সেখানকার মানুষ ভয় পেয়েছিলেন। পরিস্থিতি খুব একটা ভালো ছিল না। তবে এবার আমরা বদ্ধপরিকর। ভোট শান্তিপূর্ণ ভাবেই হবে। অবজারভার থেকে প্রশাসন—প্রত্যেকেই অত্যন্ত তৎপর আছে।”
Manoj Kumar Agarwal: ভোট শান্তিপূর্ণ হবে, সকলে তৎপর আছে দাবি CEO-র@bengalliberty @SuvenduWB @BJP4Bengal @MamataOfficial @AITCofficial @CEOWestBengal #bengalliberty #westbengaelection2026 #westbengalnews #westbengalpolitics #westbengal #manojkumaragarwal pic.twitter.com/VkWT4kgFvP
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 6, 2026
CEO-র এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, কমিশন এবার পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। যেখানে আগে গোলমাল হয়েছিল, সেই সব ‘সেন্সিটিভ’ বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল এবং নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
উত্তরণের পথ কোন দিকে? (TMC Leader Threats)
নেতাদের মুখে ‘জবাই’, ‘স্টিম রোলার’ বা ‘এলাকা ছাড়া’র মতো শব্দগুলি কোনো সুস্থ গণতন্ত্রের পরিচয় হতে পারে না। রাজনৈতিক লড়াই হবে আদর্শের ভিত্তিতে, পেশীশক্তির ভিত্তিতে নয়। নির্বাচন কমিশন রাজু মণ্ডল বা হাফিজুল মোল্লার মতো নেতাদের গ্রেফতার করে কড়া বার্তা দিলেও, গ্রাসরুট লেভেলে ভয় কাটাতে আরও অনেক কাজ বাকি।
সাধারণ মানুষের কাছে অনুরোধ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করুন এবং নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আর রাজনৈতিক দলগুলোর মনে রাখা উচিত, হুমকি দিয়ে সাময়িক জয় পাওয়া গেলেও মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ই শেষ কথা বলবে। প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের তৎপরতায় এবারের নির্বাচন কি সত্যিই রক্তপাতহীন হবে? উত্তর দেবে সময়।
আরও পড়ুন:
Suvendu Adhikari complaint: পুলিশি নজরদারির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে চিঠি শুভেন্দু অধিকারীর
