Gyanesh Kumar Election Commission
Bengal Liberty, Kolkata :
নির্বাচনের মুখে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও প্রস্তুতিতে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এই বার্তা আরও জোরালোভাবে সামনে আনল নির্বাচন কমিশন Gyanesh Kumar Election Commission। পর্যবেক্ষকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল ব্রিফিং চলাকালীনই কোচবিহার দক্ষিণের জেনারেল অবজার্ভারকে আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উপস্থিতিতেই নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে।

ভার্চুয়াল বৈঠকে চমক Gyanesh Kumar Election Commission
নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল ব্রিফিং আয়োজন করা হয়। সূত্র অনুযায়ী, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের অবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় কতটা সঠিকভাবে হচ্ছে, তা যাচাই করা। সেই অনুযায়ী একে একে প্রতিটি অবজার্ভারের কাছ থেকে তাঁদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিধানসভা কেন্দ্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছিল। এই সময় কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের জেনারেল অবজার্ভার অনুরাগ যাদবকে তাঁর এলাকার মোট ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু তিনি এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হন, যা বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ কর্তাদের বিস্মিত করে।

নজিরবিহীন ঘটনা
নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে থাকা একজন আধিকারিকের নিজের কেন্দ্র সম্পর্কেই প্রাথমিক তথ্য না জানা কমিশনের কাছে গুরুতর গাফিলতি হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ, বুথের সংখ্যা জানা না থাকলে ভোট পরিচালনা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং কর্মী মোতায়েন সব ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হতে পারে। সূত্রের খবর, এই ঘটনার পরই বৈঠক চলাকালীন নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়। কোনও বিলম্ব না করে অনুরাগ যাদবকে অবিলম্বে জেনারেল অবজার্ভারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য প্রশাসনিক মহলের মতে, সাধারণত এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে এবং একাধিক ধাপ পার করতে হয়। কিন্তু এখানে সরাসরি ব্রিফিং চলাকালীনই অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত বিরল এবং নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার মাধ্যমে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে প্রতিটি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে নিজের কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং প্রস্তুত থাকতে হবে, নাহলে কঠোর পদক্ষেপ অনিবার্য।
কোচবিহার দক্ষিণের এই ঘটনাটি শুধু একজন আধিকারিকের অপসারণ নয়, বরং নির্বাচনী ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ
কুমারের উপস্থিতিতে নেওয়া এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে , দায়িত্বে গাফিলতি হলে কোনও রকম রেয়াত মিলবে না।
ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই কমিশনের নজরদারি ও কড়াকড়ি বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
