Iran conditions for ceasefire
Bengal Liberty, কলকাতা:
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আবহে এক নাটকীয় মোড়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা (Iran conditions for ceasefire) করতেই নিজেদের ‘জয়ী’ দাবি করল ইরান। দুই দেশের মধ্যে আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য সংঘাত স্থগিত হলেও, এই বিরতির আড়ালেই কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে আমেরিকার সামনে ১০ দফা শর্ত পেশ করেছে তেহরান। এই প্রেক্ষিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পেশ করা ১০ দফা শর্ত ইতিমধ্যেই আলোচনার টেবিলে উঠেছে। দুই দেশের চলমান উত্তেজনার আবহে এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

হঠাৎ কেন এই যুদ্ধবিরতি? (Iran conditions for ceasefire)
টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক উত্তেজনার পর হঠাৎই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ইরানের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, উভয় পক্ষই আপাতত সংঘাত থামাতে সম্মত হয়েছে এবং আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই ঘোষণার পরপরই পাল্টা অবস্থান নেয় ইরান। তারা জানায়, যুদ্ধবিরতির এই সিদ্ধান্ত তাদের কৌশলগত সাফল্যের ফল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের শর্তারোপ করার মতো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপোড়েন (Iran conditions for ceasefire)
সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’। যুদ্ধ চলাকালীন এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান আপাতত হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে রাজি হলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাদের সামরিক বাহিনীর হাতেই।

ইরানের ১০ দফা শর্ত: কী আছে তেহরানের দাবিতে? (Iran conditions for ceasefire)
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আমেরিকার কাছে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তার মূল দাবিগুলো হলো—
হরমুজ প্রণালী: এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ইরানের হাতেই রাখতে হবে।
হামলা বন্ধ: ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
সেনা প্রত্যাহার: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো খালি করতে হবে।
ক্ষতিপূরণ: সাম্প্রতিক যুদ্ধে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমেরিকাকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
জাতিসংঘে হস্তক্ষেপ: নিরাপত্তা পরিষদে ইরান-বিরোধী সমস্ত প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।
USA Iran Ceasefire: ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে সেই শর্তে ২ সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতিতে রাজি আমেরিকা | Bengal Liberty@realDonaldTrump #USAIran #ceasefire #usairanconflict #IranUSA #IranUSAConflict #bengallibery pic.twitter.com/UT2KTj2m4K
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 8, 2026
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা: ভবিষ্যতে ইরানের ওপর কোনো হামলা হবে না—এমন আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি দিতে হবে।
ইউরেনিয়াম কর্মসূচি: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
IAEA সংক্রান্ত দাবি: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পূর্ববর্তী প্রতিকূল সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।
প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা: ইরানের ওপর আরোপিত প্রাথমিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিতে হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা অন্যান্য দেশের ওপর আরোপিত (সেকেন্ডারি) নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করতে হবে।
পরবর্তী গন্তব্য কী? (Iran conditions for ceasefire)
অস্ত্রবিরতির এই সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে রণক্ষেত্রের আগুন নেভালেও প্রকৃত লড়াই এখন কূটনীতির টেবিলে। ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ। আগামী কয়েক দিনের আলোচনা কতটা সফল হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি আসবে, নাকি আবারও জ্বলে উঠবে সংঘাতের লেলিহান শিখা।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি! তেলের দামে বড় পতন হলেও ভারতে আকাশছোঁয়া সোনা
