High-voltage Bhabanipur
Bengal Liberty, ২৮ এপ্রিল :
দক্ষিণ কলকাতার একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ এলাকার নাম ভবানীপুর। ১৭৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মীর জাফরের কাছ থেকে কেনা ৩৩টি গ্রামের একটি হিসেবে, যা ‘দিহি পঞ্চান্নগ্রাম’ নামে পরিচিত ছিল High-voltage Bhabanipur। ঐতিহাসিকভাবে এটি ছিল কাঠাল ও শঙ্খ কাটার মতো শ্রমিকদের বসতি। যত সময় এগিয়েছে, ততই ভবানীপুরের ঐতিহ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। নেতাজি সুভাষ থেকে শুরু করে কলকাতার প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে ব্রিটিশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে বাংলার দামাল ছেলেরা। কিন্তু আগামীকাল আরও এক নতুন পালক ভবানীপুরের মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে, যা বাংলার রাজনীতিতে নতুন মোড় খুলে দিতে পারে।

মমতা বনাম শুভেন্দু: রাউন্ড ২: High-voltage Bhabanipur
রাত পেরোলেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা—মোট ৭টি জেলার ১৪২টি কেন্দ্রে জমজমাট লড়াই। তারই মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভবানীপুরে মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। একুশের নন্দীগ্রাম নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি—আবারও একবার মুখোমুখি দুই পক্ষ। পুরো ভবানীপুর এলাকাকে এখন থেকেই জোরদার নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। রাজনীতির ময়দানে কে বাজিমাত করবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

কেন ভবানীপুর গুরুত্বপূর্ণ?
একটা ব্যাপারে সবাই প্রায় নিশ্চিত—ভবানীপুর যার, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার তার। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসানের পর সিপিআই(এম) প্রার্থী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়কে উপনির্বাচনে পরাজিত করেই মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার নিশ্চিত করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজয়ের পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা তিব্রেওয়ালকে হারিয়েই তিনি পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীর পদ ফিরে পান। তাই বোঝাই যাচ্ছে, ভবানীপুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
বিজেপি কি এগিয়ে?
লোকসভার বুথ ফলের দিকে লক্ষ করলে দেখা যাবে ভবানীপুরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিজেপির পাল্লাভারি। আর সেখানেই নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের প্রচারে ঝড় তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
জনসংযোগ থেকে শুরু করে সভা—সব জায়গাতেই শুভেন্দুর সঙ্গে সাধারণ মানুষের এক নতুন সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, তা প্রায় স্পষ্ট। অন্যদিকে শাসক নেত্রীর প্রচারের সময় বারংবার তাল কাটছে। ফিরহাদ হাকিমের প্রচারের সময়ও এলাকাবাসী নর্দমা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রভৃতি বিষয়কে কেন্দ্র করে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ক্ষোভে প্রতিক্রিয়া কি ভোট বাক্সে পড়বে? সেটাই এখন দেখার।
আগামীকালের ভোটের পরই প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলার মসনদ কে অধিকার করবে—বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, নাকি নতুন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যাবর্তন নাকি পরিবর্তন—কোনদিকে যাবে ভোটের ফল, তার উত্তর মিলবে আগামী সোমবার।
