India pharmacy strike
Bengal Liberty, ৩ মে :
সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে আগামী ২০ মে (India pharmacy strike) দেশজুড়ে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার ডাক দিল ‘অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস’ (AIOCD)। ই-ফার্মেসি বা অনলাইন ওষুধ বিক্রির দাপট এবং ওষুধ কোম্পানিগুলির একচেটিয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই ধর্মঘটের (India pharmacy strike) ডাক দেওয়া হয়েছে।

কেন এই ধর্মঘটের ডাক? (India pharmacy strike)
ওষুধ বিক্রেতাদের প্রধান সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অব কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস’ (AIOCD) মূলত তিনটি মৌলিক সমস্যার সমাধানের দাবিতে এই আন্দোলনের পথে হেঁটেছে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান নীতিগুলি সাধারণ ওষুধ ব্যবসায়ীদের রুটিরুজিতে টান দিচ্ছে।
১. অনলাইন ফার্মেসির দাপট ও সুরক্ষা ঝুঁকি
সংগঠনটির প্রথম এবং প্রধান অভিযোগ হলো ই-ফার্মেসি বা অনলাইন ওষুধ বিক্রির অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার। তাদের দাবি, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ওষুধের সুরক্ষা বিধি সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে যাচাই না করেই ভুয়ো প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দেশের প্রচলিত ড্রাগ আইনের তোয়াক্কা না করেই এই ব্যবসা চলছে বলে দাবি তাঁদের।
২.ওষুধের গুণমান ও আকাশছোঁয়া ছাড়ের রাজনীতি
দ্বিতীয়ত, কেমিস্টদের অভিযোগ হলো বড় বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, এই কোম্পানিগুলি নিজেদের স্বার্থে এবং অনলাইন সংস্থাগুলিকে সুবিধা দিতে ওষুধের দাম অন্যায্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। সংগঠনের আশঙ্কা, প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে গিয়ে ওষুধের দাম কমাতে গিয়ে মানের সঙ্গে আপস করা হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে রোগীদের ক্ষতি করছে। এই ‘প্রাইস ওয়ার’-এর ফলে ছোট ও মাঝারি দোকানদাররা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন।

৩.করোনা পরিস্থিতির অপব্যবহারের অভিযোগ (India pharmacy strike)
ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার পিছনে আরও একটি বড় কারণ হলো ২০২০ সালের একটি বিশেষ সরকারি নির্দেশিকা। অতিমারির সময় লকডাউন চলাকালীন সাধারণের সুবিধার্থে বাড়ি বাড়ি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার (Home Delivery) অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সংগঠনের দাবি, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলেও ই-ফার্মেসিগুলি সেই বিশেষ ছাড়পত্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আজও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করে চিরাচরিত দোকানদারদের স্বার্থ রক্ষার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
৪.আলোচনায় ব্যর্থতা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
এআইওসিডি (AIOCD)-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমস্যাগুলি নিয়ে তাঁরা বারবার কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন ওষুধ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনও স্থায়ী সুরাহা মেলেনি। একদিকে অনলাইন অ্যাপগুলির আকাশছোঁয়া বিজ্ঞাপনের দাপট আর অন্যদিকে নীতিগত শিথিলতা এই দুই সাঁড়াশির চাপে পিষ্ট হয়েই শেষমেশ ২০ মে দেশজুড়ে ধর্মঘটের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ভোগান্তির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ (India pharmacy strike)
তবে একদিনের জন্য সব দোকান বন্ধ থাকলে জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হার্ট, ডায়াবেটিস বা কিডনির মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ওষুধের জন্য সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হবে। তবে ধর্মঘট চলাকালীন আপৎকালীন ভিত্তিতে কোনো পরিষেবা খোলা থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো নির্দেশিকা মেলেনি। ডিজিটাল দুনিয়ার দাপট বনাম ট্র্যাডিশনাল ব্যবসার এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার। সরকার বা ওষুধ কোম্পানিগুলি ২০ মের আগে ব্যবসায়ীদের দাবি মানবে কি না, তার ওপর নির্ভর করছে কয়েক কোটি মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা।
