Political crisis
Bengal liberty desk, 7 মে , কলকাতা:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা। হারের রেশ কাটতে না কাটতেই দলের হেভিওয়েট নেতা ও প্রাক্তন বিধায়করা সরাসরি আক্রমণ শুরু করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে (Political crisis)। ক্ষোভ এতটাই চরম যে, দলের এক প্রাক্তন বিধায়ক অভিষেককে ‘অভিশাপ’ বলতেও দ্বিধা করেননি।

সরাসরি অভিষেককে আক্রমণ Political crisis
ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়ক মণিরুল ইসলাম সবথেকে বিস্ফোরক মন্তব্যটি করেছেন। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব বাংলার মানুষ মেনে নিতে পারেনি। উনি সাংসদ ও বিধায়কদের চাকর মনে করতেন। আমার মতে উনি অভিষেক নন, অভিশাপ।” একই সুর শোনা গিয়েছে মালদহের দাপুটে নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর গলায়। তাঁর দাবি, “দলের এই বিপর্যয়ের পিছনে একজনই ব্যক্তি দায়ী, যিনি দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন— তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”

আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ:
জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক গুপ্ত কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে। তাঁর অভিযোগ মারাত্মক। তিনি বলেন, “আইপ্যাক হচ্ছে গদ্দার ও চোর। আমাদের দলের অভ্যন্তরীণ মিটিংয়ের লিঙ্ক বিজেপির কাছে পৌঁছে যেত। আমাদের ডেটা বিজেপিকে দেওয়া হতো না, তার গ্যারান্টি কে দেবে?” শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করার কোনো সুযোগ নেই বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।

পুরনো বনাম নতুন দ্বন্দ্ব:
দলের পুরনো কর্মীরা যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন, তা স্পষ্ট হয়েছে উত্তর কলকাতার নেতা অতীন ঘোষের কথায়। তিনি বলেন, “অভিষেক আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে দল চালাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রযুক্তি দিয়ে নিচুতলার মানুষের মনের হদিস পাওয়া যায় না।” ব্যারাকপুরের উত্তম দাসও মনে করেন, ১৯৯৮ সাল থেকে যাঁরা দল করছেন, তাঁদের সাথে নতুন প্রজন্মের নেতাদের চিন্তাভাবনার আকাশ-পাতাল তফাত তৈরি হয়েছে।
নেতারা যখন ‘অস্পৃশ্য’
নারায়ণগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে তৃণমূলে সংগঠনের কোনো বালাই নেই। কোনো বিধায়ক বা সাংসদ দেখা করতে গেলে তাঁদের খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরেও ঢুকতে দেওয়া হতো না। অন্যদিকে, রত্না চট্টোপাধ্যায়ের মতে, দলের নেতাদের ঔদ্ধত্য ও অহংকার এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তাঁরা কর্মীদের কথা শোনা তো দূর, এড়িয়ে চলতেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগের রাজনীতি বনাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কর্পোরেট’ ধাঁচে দল চালানো— এই দুইয়ের লড়াইয়েই কি ডুবল ঘাসফুল শিবির? ২০২৬-এর এই ভরাডুবির পর বিক্ষুব্ধ নেতাদের একের পর এক বয়ান এখন সেই প্রশ্নই তুলছে। দলের অন্দরে এই ক্ষোভের আগুন আগামী দিনে তৃণমূলকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।
