security cut
Bengal Liberty, ৭ মে:
অবশেষে অবসান হলো সেই ‘ভিআইপি’ দাপটের! প্রশাসনিক রদবদলের আবহেই মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিল পুলিশ প্রশাসন। দীর্ঘ এক দশকের ‘ভিআইপি কালচার’ আর সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখার রাজনীতির অবসান ঘটল (Security cut)। অবশেষে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিট সর্বত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত নিরাপত্তার দাপট সরিয়ে নিল প্রশাসন।একযোগে সবকটি জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় অতিরিক্ত পুলিশি ঘেরাটোপ।

একযোগে প্রত্যাহার অতিরিক্ত নিরাপত্তা Security cut
রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, জেড প্লাস (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা তাঁরা নিয়মমাফিক পাবেন। তবে রিভিউ করে দেখা গেছে, জেড প্লাস ছাড়াও একটি বিশাল অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা ছিল, যা কার্যত অপ্রয়োজনীয়। সেই বাহিনীকে সরিয়ে এখন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার কাজে লাগানো হচ্ছে। এদিন সকাল থেকেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, হরিশ মুখার্জি রোড এবং কালীঘাট রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের ব্যারিকেড সরতে শুরু করে। একই ছবি ধরা পড়েছে তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনেও।

স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন জনগণ Security cut
নিরাপত্তার বাড়বাড়ন্তে এতদিন যে বাসিন্দারা কার্যত নিজেদের পাড়ায় ‘বন্দি’ ছিলেন, আজ তাঁদের মুখে চওড়া হাসি। অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরে যেতেই স্থানীয়রা উল্লাসে মেতে ওঠেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক বাসিন্দা বলেন, “লটারির টিকিট পেলেও বোধহয় এরকম আনন্দ হয় না। এতদিন নরক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম, আজ অন্তত মুক্ত হলাম।” কালীঘাটের দাপুটে নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এদিন আছড়ে পড়েছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাপটকে কটাক্ষ করে কাউকে বলতে শোনা যায়, “এতদিন ২ টাকার মস্তানের মতো পাড়া মাথায় করে রাখত, আজ সব দাপট শেষ!”
সব মিলিয়ে, কালীঘাটের দুর্ভেদ্য দেওয়াল এখন টলমল। যে নিরাপত্তার দাপটে এতদিন সাধারণ মানুষের পথ চলা দায় ছিল, আজ সেই ব্যারিকেড সরে যাওয়া আসলে এক বৃহত্তর পরিবর্তনেরই আগাম সংকেত। দম্ভের রাজত্ব সরিয়ে বাংলা এখন সুশাসনের অপেক্ষায়। ক্ষমতার এই ‘রদবদল’ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং নবান্নের নতুন কাণ্ডারিরা বাংলার আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে আর কী কী কঠোর পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার।
