Brigade special
বেঙ্গল লিবার্টি, কলকাতা:
আজ কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড চেনা ছক ভেঙে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিল। আপাদমস্তক বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতিতে মোড়া এক অভিনবত্বের ছোঁয়ায় পালিত হচ্ছে আজকের এই শপথ অনুষ্ঠান। ঢাকের বাদ্যি, ধুনুচি নাচের ছন্দে মাতোয়ারা মহানগরী। তবে মিষ্টিমুখ ছাড়া বাঙালির শুভ কাজ অসম্পূর্ণ থাকে, তাই রয়েছে বাংলার বিশেষ মিষ্টি রসগোল্লার আয়োজন।

সাংস্কৃতিক উৎসবের মঞ্চ:
আজকের ব্রিগেডের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বাংলার প্রান্তিক সংস্কৃতি। পুরুলিয়ার ছৌ নাচ এবং জঙ্গলমহলের সাঁওতাল নাচের ছন্দে তাল মেলাচ্ছে সকলে। শুধু তাই নয়, ব্রিগেডের এক কোণে মা দুর্গার বিশাল প্রতিকৃতির সামনে ঢাকের তালে ধুনুচি নাচের মহড়া, এ যেন উৎসব। শপথ গ্রহণের উৎসব। অবহেলিত বাংলার মানুষের ভয় OUT , ভরসা IN হওয়ার উৎসব। ঢাকিরা সাবেকি ধুতি-পাঞ্জাবিতে, মেয়েরা লাল সাদা শাড়িতে বাঙালিয়ানার কদর শিখরে পৌঁছেছে।

রসনায় ‘প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি’ ও বাংলার রসগোল্লা :
মঞ্চের বাইরে ভোজনরসিক বাঙালির জন্য আয়োজনও বেশ রাজকীয়। ব্রিগেডের অন্দরেই বসেছে প্রায় ২০টি ঝালমুড়ির স্টল, যা ইতিপূর্বেই ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় ঝালমুড়ি’ হিসেবে রাজনৈতিক মহলে ট্রেন্ডিং। মিষ্টির স্বাদ ছাড়া বাঙালির কোনো উৎসব কি আর সম্পূর্ণ হয়? তাই তো রসগোল্লার আমেজ নিয়ে সেখানে হাজির রয়েছে অন্তত ৫-৬টি মিষ্টির দোকান। সঙ্গে ফুটপাতে জায়গা করে নিয়েছে আলম প্যাটিসওয়ালা। আমিষ ও নিরামিষ – উভয় প্রকার গরম প্যাটিসের গন্ধে ম-ম করছে চারপাশ।
সব মিলিয়ে আজকের শপথ অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি আর রসনার এক মহা মিলনোৎসবে পরিণত হয়েছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে যেখানে বড় হয়ে উঠেছে ‘বাঙালিয়ানা’।
