Ujjola yojona
Bengal Liberty, ১২ মে ২০২৬ :
৪ মে, সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গবাসী এক নতুন সূর্যের উদয় দেখল। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার ইতি ঘটিয়ে শ্যামাপ্রসাদের বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হলো প্রথম বিজেপি সরকার। চারিদিকে খুশির মেলা, গেরুয়া রঙে রাঙা হয়ে উঠেছে গোটা বাংলা। এই জয়ের নেপথ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের এক দামাল ছেলে, বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নিয়ে প্রথম কেবিনেট মিটিংয়েই একাধিক ঘোষণা করে বার্তা দিলেন— যেমন কথা, তেমন কাজ। এলেন, দেখলেন, জয় করলেন।

কেবিনেট মিটিংয়ে বড় ঘোষণা Ujjola yojona
সোমবার বিজেপির প্রথম কেবিনেট মিটিংয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। আয়ুষ্মান ভারত-সহ সমস্ত সরকারি প্রকল্প চালুর পাশাপাশি উজ্জ্বলা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা :
” ভারতবর্ষে ১১ কোটি মা-বোনেরা উজ্জ্বলা ১.০ ও ২.০-এর সুবিধা পাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে এর মধ্যে ১ কোটি ২৯ লক্ষ মানুষ এই সুবিধা পান। কম মূল্যে তাঁরা গ্যাস কেনেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে আরও ৭৫ লক্ষ সংযোগ চালু করেছিলেন এবং বাংলার জন্য কোটা ছিল ১১ লক্ষ। গ্রাহক বিতরণ কেন্দ্রে হাজার হাজার দরখাস্ত পড়ে থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক কারণে DM-রা নির্দিষ্ট দফতরে তা পাঠাননি। তাই আমাদের মা-বোনেরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। আমরা এগুলো নির্দিষ্ট দফতরে খুব তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দেব। এর ফলে উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০-তে আরও কয়েক লক্ষ মা-বোন যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।”

উজ্জ্বলা যোজনা কী? :
প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা হলো ভারত সরকারের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প, যার লক্ষ্য দরিদ্র পরিবারগুলোর মহিলাদের বিনামূল্যে এলপিজি গ্যাস সংযোগ প্রদান করা। ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা দেশজুড়ে মোট ১০.৬ কোটি সংযোগে উন্নীত করা হয়েছে। যোগ্য পরিবারগুলোর মহিলারা এলপিজি সংযোগের জন্য কোনো জামানত বা সিকিউরিটি ডিপোজিট ছাড়াই আবেদন করতে পারেন। আবেদনকারীরা বছরে ১২টি গ্যাস সিলিন্ডারের সুবিধা পাবেন।
আবেদনের নিয়ম :
১. যিনি আবেদন করবেন, তাঁকে অবশ্যই মহিলা হতে হবে এবং বয়স ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে হতে হবে।
২. আবেদনকারীকে বিপিএল পরিবারের সদস্য হতে হবে।
৩. সেই মহিলার নামে অন্য কোনো সরকারি LPG কানেকশন থাকা যাবে না। থাকলে উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধা পাওয়া যাবে না।
প্রথম কেবিনেট বৈঠকেই প্রমাণ হয়ে গেল, মানুষের জন্য কাজ করতে নতুন সরকার বদ্ধপরিকর। বিজেপি সরকারের আগামী দিনে আর কী কী চমক অপেক্ষা করছে, সেটাই এখন দেখার।
