R G Kar Incident
Bengal Liberty, ১৩ মে:
আরজি করের নির্যাতিতা ‘অভয়া’-র ন্যায়বিচারের লড়াই এবার এক নতুন এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড় নিল। আজ মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নির্যাতিতার পরিবার সরাসরি তিন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ‘দেহ হাইজ্যাক’ করার এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার বিস্ফোরক অভিযোগ আনল। (R G Kar Incident)

কাদের বিরুদ্ধে শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ পরিবার?
নির্যাতিতার পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, ঘটনার দিন আরজি কর হাসপাতাল থেকে দেহ বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্মল ঘোষ – প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, সন্দীপ মুখোপাধ্যায় – দাপুটে তৃণমূল নেতা, সোমনাথ দে – পানিহাটি মিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যান।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে দেহটি কার্যত ‘হাইজ্যাক’ করে নিয়ে গিয়েছিলেন এই তিন জন। তাঁরা সিবিআই-এর কাছে দাবি তুলেছেন, কেন তদন্তে এই তিনজনের ভূমিকা এখনও সেভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি? তাঁদের অবিলম্বে হেফাজতে নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি জানানো হয়েছে আদালতের কাছে। যদিও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) এখনই এই নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সময় চেয়েছে এবং আগামী ৫ জুন তারা এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দেবে।

হাইকোর্টে বিচারপতি মান্থার প্রস্থান
একদিকে যখন নিম্ন আদালতে এই টানাপোড়েন চলছে, অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্টেও ঘটে গেল নজিরবিহীন ঘটনা। যেদিন সিবিআই সিলবন্ধ খামে তদন্তের রিপোর্ট জমা দিল, ঠিক সেদিনই মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যেহেতু রাজ্য এই মামলার জন্য জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করছে বলে শোনা যাচ্ছে, তাই এই মুহূর্তে তা শোনার প্রয়োজন নেই।
বিচার যখন রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির কবলে পড়ে, তখন সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষরণ হয় অভয়ার মতো মেহনতি পরিবারের। নির্মল ঘোষ বা সোমনাথ দে-দের বিরুদ্ধে ওঠা এই ‘দেহ হাইজ্যাকের’ অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তবে তা বাংলার ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। অভয়ার মা আজ বিধায়ক হয়ে বিধানসভায় যাচ্ছেন, কিন্তু সেই ‘সিস্টেম’ কি তাঁকে সত্যিটা বের করে আনতে দেবে? বিচার কি তবে রাজনীতির চক্করে পথ হারাবে, নাকি ৫ জুন আদালতে ঘটবে বড় কোনো পতন?
