Kunal Ghosh
Bengal Liberty, ১৪ মে :
নতুন সরকার গঠনের পর বিধানসভায় শেষ হল নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ পর্ব (Kunal Ghosh)। আর তার পরই দেখা গেল একের পর এক বিরল রাজনৈতিক মুহূর্ত। প্রথমবার বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন কুণাল ঘোষ। শপথের পর বিধানসভার অন্দরেই মুখোমুখি হন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কুণাল ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ময়দানে যাঁদের কড়া বিরোধিতার ছবিই সামনে এসেছে, এদিন তাঁদের মধ্যেই দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন সমীকরণ। সৌজন্য বিনিময়ের পাশাপাশি দু’জনকেই দেখা যায় হাসিমুখে কথাবার্তা বলতে। শুধু তাই নয়, বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষের সঙ্গেও উষ্ণ মুহূর্তে ধরা পড়েন কুণাল ঘোষ। বিধানসভার অন্দরে একে অপরকে জড়িয়ে ধরতেও দেখা যায় তাঁদের। অবাক হওয়ার এখানেই শেষ নয় শপথ গ্রহণ শেষে নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে কুণাল ঘোষকে দেখা যায় বিজেপির তাপস রায় এবং সজল ঘোষের ভুয়সী প্রশংসা করতে (Kunal Ghosh)।

বিধানসভায় বেনজীর ছবি (Kunal Ghosh)
কয়েক মাস আগেও রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে প্রায় প্রতিদিনই বিজেপি ও বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যেত কুণাল ঘোষকে। একসময় একই দলে থাকলেও গত কয়েক বছরে তাঁদের রাজনৈতিক বিরোধিতাই ছিল বাংলার রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয়। কিন্তু বিধানসভায় এদিন দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। সূত্রের খবর, শপথ নিয়ে লবি দিয়ে বেরোচ্ছিলেন কুণাল ঘোষ। সেই সময়ই সামনে পড়ে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের বিধায়ক শুভেন্দুকে দেখে কুণাল প্রথমেই শুভেচ্ছা জানান। জবাবে শুভেন্দুও থেমে হাসিমুখে বলেন, “কি, শেষ পর্যন্ত জিতে গেলেন তো!” তারপর দু’জনের মুখেই দেখা যায় চওড়া হাসি।
সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক ও রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি এগিয়ে এসে কুণাল ঘোষকে জড়িয়ে ধরেন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও অতীতেও একাধিকবার দিলীপ ঘোষের সাংগঠনিক লড়াই ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন কুণাল। এমনকি একসময় তাঁকে “বঙ্গ বিজেপির সেরা সভাপতি” বলেও উল্লেখ করেছিলেন। তবে এদিন বিধানসভার অন্দরে যে ছবি ধরা পড়ল, তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

কুণালের মুখে তাপস ও সজলের প্রশংসা (Kunal Ghosh)
বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আবেগঘন পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ। পোস্টের শুরুতেই তিনি ধন্যবাদ জানান দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার মানুষকে। একইসঙ্গে উল্লেখ করেন, তাঁর শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন বিজেপির হয়ে জয়ী হওয়া প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়, যাঁকে তিনি “দীর্ঘদিনের দাদা এবং নেতা” বলে উল্লেখ করেছেন। কুণাল লেখেন, “তাপসদাকে তৃণমূলে রাখতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি, দুর্ভাগ্য।” তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে তাপস রায় সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করায় একসময় তাঁকে দল সাসপেন্ডও করেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই কুণালের মন্তব্য, “ঘটনাচক্রে আমি আজ দলের বিধায়ক এবং শপথবাক্য পাঠ করছি বিজেপির হয়ে জিতে আসা তাপসদার হাতে। ভাগ্যচক্র।”
বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ। ধন্যবাদ মাননীয়া দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধন্যবাদ বেলেঘাটা কেন্দ্রের নাগরিকদের। শপথ পাঠ করালেন মাননীয় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। দীর্ঘদিনের দাদা এবং নেতা। তাপসদাকে তৃণমূলে রাখতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি, দুর্ভাগ্য। পরে রাজনৈতিক… pic.twitter.com/z6vju0TRRp
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) May 14, 2026

এখানেই শেষ নয় কুণাল ঘোষের পোস্টে উঠে এসেছে সজল ঘোষের প্রসঙ্গও। কুণালের দাবি, উত্তর ও মধ্য কলকাতার রাজনীতিতে এই দুই নেতাকে দল ছাড়তে কার্যত বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি লেখেন, “তাপসদা, সজল ঘোষদের রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলাম। আজ তাঁরা বিধায়ক।” তবে এত কিছুর পরেও নিজেকে তৃণমূলের সৈনিক বলেই দাবি করেছেন কুণাল ঘোষ। একইসঙ্গে দলের অন্দরের কিছু বিষয় নিয়ে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “যাদের জন্য তাপসদা, সজলরা এবং আরও অনেকে দল ছেড়েছে, তাদের নিয়েই এখনও স্বজনপোষণ ও হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স চলছে।” পোস্টের শেষে তাঁর সংযোজন – “জয় বাংলা। পুনশ্চ: কেস দেবেন না প্লিজ।”
