Jal Jeevan Mission
Bengal Liberty, ১৮ মে :
রাজ্যে পানীয় জলের পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে কেন্দ্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার পথে হাঁটল নতুন রাজ্য সরকার (Jal Jeevan Mission)। সোমবার কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে মৌ স্বাক্ষর করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দাবি করেন, এতদিন প্রকল্পের কাজ মূলত “খাতায়-কলমেই সীমাবদ্ধ” ছিল এবং কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলে ‘জলস্বপ্ন’ করা হলেও বাস্তবে বহু এলাকায় পানীয় জলের পরিষেবা পৌঁছয়নি। নরেন্দ্র মোদি সরকারের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প জল জীবন মিশন সফলভাবে রূপায়ণের লক্ষ্যে এই মৌ স্বাক্ষর করেছে রাজ্য সরকার। এদিনের বৈঠকে জল জীবন মিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে (Jal Jeevan Mission)।

‘জল জীবন মিশন’ বাস্তবায়নে ঐতিহাসিক চুক্তি (Jal Jeevan Mission)
প্রাক্-বর্ষা পরিস্থিতি মোকাবিলা থেকে শুরু করে রাজ্যের পানীয় জল পরিষেবার ভবিষ্যৎ রূপরেখা, সোমবার নবান্নে কার্যত ব্যস্ততম দিন কাটাল রাজ্য প্রশাসন। দিনের শুরুতেই সেচ দফতর ও ডিভিসি (DVC)-র শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টি, জলাধারের পরিস্থিতি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় ওই বৈঠকে। নবান্নে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসে রাজ্য সরকার। সেই বৈঠকেই ‘জল জীবন মিশন’ সফলভাবে রূপায়ণের লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সই হয় গুরুত্বপূর্ণ মৌ (MoU)। মোদি সরকারের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই চুক্তির ফলে বাংলার জল পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসতে পারে।

“কেন্দ্র টাকা দিলেও কাজ নেই”, পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ শুভেন্দুর (Jal Jeevan Mission)
‘জল জীবন মিশন’ নিয়ে বৈঠকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের তরফে বিপুল অর্থ বরাদ্দ হলেও প্রকল্পের বাস্তবায়নে কার্যত কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জল জীবন মিশনের সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কেন্দ্র টাকা দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই টাকার সঠিক ব্যবহার এবং প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। এটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের প্রকল্প।” শুভেন্দুর দাবি, এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল রাজ্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁর কথায়, “গ্রাউন্ড রিয়ালিটি খুব খারাপ। কোথায় কত কাজ হয়েছে, কীভাবে টাকা খরচ হয়েছে, সবটাই আগামী দিনে খতিয়ে দেখা হবে।”

রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Jal Jeevan Mission)
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার জল প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। শুভেন্দুর কথায়, “মন্ত্রী পাতিল সাহেব অনেকদিন ধরেই বলছিলেন, বাংলায় আগের সরকারের জমানায় কত টাকা নষ্ট হচ্ছে।” তার সাথেই রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হতাশ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ পরিশ্রুত জলের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা এই কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাব। তারপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সেচের আরও কিছু নতুন প্রজেক্ট আমরা দিল্লির কাছে পাঠাব। আপনারা সাহায্য করবেন। কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়া আমরা এগোতে পারব না, কারণ রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত খারাপ।”
