Janatar Darbar
Bengal Liberty, ১৮ মে :
ভোটের মঞ্চে দেওয়া প্রতিশ্রুতির পর এবার বাস্তবের মাটিতে পদার্পণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Janatar Darbar)। প্রশাসনের দরজা যেন আর শুধু নবান্নের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার সকালেই সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে শুরু হল ‘জনতার দরবার’ । যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরলেন নিজেদের সমস্যা, অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা। প্রথম দিনেই মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। নিজেদের অভিযোগ এবং প্রত্যাশা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানানোর সৌভাগ্য কেউই নাগালছাড়া করতে চায়নি। আর মানুষের ভিড়ই স্পষ্ট করে দিল, বাংলার রাজনীতিতে প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার এই উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আশা। আজকের এই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় (Janatar Darbar)।

অফ ক্যামেরায় মানুষের কথা শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী (Janatar Darbar)
সোমবার সকাল থেকেই সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ের বাইরে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন নজর কাড়ে। চাকরিপ্রার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত বহু মানুষ ভিড় জমান ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে। নিজেদের কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে। কর্মসূচি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের কক্ষের বাইরে যাওয়ার অনুরোধ জানান, যাতে সাধারণ মানুষ অফ ক্যামেরায় খোলামেলা ভাবে নিজেদের সমস্যা জানাতে পারেন। নবান্ন সূত্রে আগেই ইঙ্গিত মিলেছিল জুন মাস থেকে এই কর্মসূচি শুরু হতে পারে। তবে তার আগেই ১৮ মে থেকেই চালু হয়ে গেল এই বিশেষ উদ্যোগ। এখন থেকে সপ্তাহে এক বা ২ দিন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে সরাসরি মানুষের মুখোমুখি হবেন মুখ্যমন্ত্রী। উদ্দেশ্য একটাই, অভিযোগ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের ‘জনতা দরবার’ কিংবা ওড়িশার ‘জনশুনানি’র ধাঁচে এবার বাংলাতেও প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত সমাধানই হবে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Janatar Darbar)
‘জনতার দরবার’-এর প্রথম দিনেই মানুষের নানা সমস্যার কথা শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষও তাঁদের সমস্যার কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে পারে নিশ্চিন্ত বোধ করেন। কর্মসূচি শেষ করেই শুভেন্দু অধিকারী সোজা নবান্নের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কারণ আজ, সোমবারই রয়েছে রাজ্য সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। নবান্ন সূত্রে খবর, এদিনের বৈঠকে আর জি কর কাণ্ড, নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ এবং নতুন পে কমিশন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি বিএসএফ-এর সঙ্গে জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয়েও আলাদা বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
