Sona Pappu Arrest
বেঙ্গল লিবার্টি, কলকাতা:
দীর্ঘ তিন মাস ধরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চোখ এড়িয়ে অবশেষে গ্রেফতার হলেন কসবার ত্রাস বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু (Sona pappu arrest)। জমি প্রতারণা এবং তোলাবাজির মামলায় সোমবার ইডি গ্রেফতার করে তাঁকে। আজ, বিধাননগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। সিন্ডিকেট সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে পেশ করা হবে সোনা পাপ্পুকে।

হাসপাতালের বাইরে ‘চোর’ স্লোগান Sona pappu arrest
গ্রেফতারির পর সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় বিধাননগর হাসপাতালে, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। তীব্র ক্ষোভে ‘চোর’ স্লোগানে ফেটে পড়ে উত্তেজিত জনতা। ব্যাঙ্কশাল কোর্টে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, জমি দখল, তোলাবাজি ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পুকে’ আজ ইডির বিশেষ আদালত অর্থাৎ ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হল। সোমবার টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে। প্রায় ৩ মাস অর্থাৎ দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সোনা পাপ্পু সোমবার সকালে সল্টলেকের ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিল। সেখানে তদন্তে অসহযোগিতা করার অভিযোগে তাকে গতকাল সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে ইডি।

প্রসঙ্গত, এই মামলায় আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল ব্যবসায়ী জয় কামদার, কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। গতকাল এই মামলায় সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করার আগে ইডির হাতে আগে গ্রেফতার হওয়া এই মামলাতে ব্যবসায়ী জয় কামদার, কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক অসঙ্গতি থাকায় এই মামলায় গতকাল রাতেই সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। এরপর তাকে আদালতে পেশ করা হল তাকে। এই মামলায় সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে যে যে প্রমাণপত্র বা নথি এখনো পর্যন্ত মিলেছে সেইগুলো আজকে কেস ডায়েরির মধ্য দিয়ে আদালতে পেশ করা হবে।
দক্ষিণ কলকাতার কসবা ও বালিগঞ্জ এলাকায় প্রোমোটিং, জমি দখল এবং সিন্ডিকেট রাজ চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বেআইনি সিন্ডিকেট চক্রে প্রভাবশালীদের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদেরও মদত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

নেপথ্যে পুলিশের বড় প্রভাবশালী যোগ
একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে। সোনা পাপ্পুর এই সিন্ডিকেট ও জমি প্রতারণার কারবারে একাধিক পুলিশ অফিসার সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ সামনে আসছে। প্রথমে জয় কামদার, তারপর শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, আজ গ্রেফতার হলো সোনা পাপ্পু। এবার কোন কোন তথ্য সামনে আসবে, সেটাই দেখার।
