Amit Chakrabarty
Bengal Liberty, ২০ মে :
মঙ্গলবার রাত থেকেই অভিষেক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতারির খবর ভেসে আসলেও পুলিশের জাল কেটে বেরিয়ে গেলেন রাজারহাট গোপালপুরের বিদায়ী বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ (Amit Chakrabarty arrest)। তবে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হলেন দেবরাজ ঘনিষ্ঠ অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননী। গতকাল, মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয় ননীকে। আজ, বুধবার সকালে তাকে বারাসত জেলা আদালতে তোলা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত অমিত চক্রবর্তীকে তদন্তের স্বার্থে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। অপরদিকে রাজারহাট গোপালপুরের বিদায়ী বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামীকে আটক করলেও যথার্থ তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় অবশেষে আজ, বুধবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয় রাজারহাট-গোপালপুরের বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে (Amit Chakrabarty arrest)। বিজেপির কটাক্ষ, ” জাল ছিঁড়ে পালালেও পুকুর ছেড়ে কি পালাতে পারবে?”

কোন মামলায় গ্রেফতার দেবরাজের ছায়াসঙ্গী? (Amit Chakrabarty arrest)
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাগুইআটির রঘুনাথপুর এলাকার এক প্রোমোটার কিশোর হালদারের কাছে মোটা অঙ্কের কাটমানি দাবি করেছিলেন অমিত। অভিযোগ, এককালীন ৫০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয় তাঁর কাছে। আতঙ্কে প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা দিলেও পরে বাকি টাকা দিতে অস্বীকার করেন ওই ব্যবসায়ী। এরপরই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। অভিযোগ, কিশোর হালদারের উপর চড়াও হয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের বাট ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার পর বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত প্রোমোটার। সেই মামলার তদন্তে নেমেই মঙ্গলবার রাতে অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে বাগুইহাটি থানার পুলিশ।

একাধিক অভিযোগে জর্জরিত দেবরাজও (Amit Chakrabarty arrest)
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা তথা রাজারহাট-গোপালপুরের বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত। মঙ্গলবার রাত থেকেই সমাজমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেবরাজের গ্রেফতারির খবরে। জানা গেছে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে আগেই ইডি ও সিবিআইয়ের নজরে এসেছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁর উপর নজরদারি বাড়ায় পুলিশ। বিধাননগর পুর এলাকায় নিয়োগ ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ চলছিল বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, গ্রেফতারি এড়াতে গত কয়েকদিন ধরে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। এরপর তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও তোলাবাজি ও দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতারের জল্পনা ছড়ালেও উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় আজ, বুধবার সকালে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে।
প্রসঙ্গত, বিজেপি ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই কার্যত, “জঞ্জাল সাফাই” অভিযানে নেমে পড়েছে। বাদ যায়নি তাবড় তাবড় নেতাও। ফাইল খুলেছে আর জি করের। এমতাবস্থায় তোলাবাজি, বিরোধীদের উপর আক্রমণ-সহ বিভিন্ন অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন প্রাক্তন বিধায়কের স্বামী। বিধানসভা ভোটের শুরু থেকেই দেবরাজকে নিয়ে বারবার সরব হয়েছে রাজ্য বিজেপি। তারই মধ্যে একাধিক নেতার নামের সাথে দেবরাজের নব্যসংযোজন হলেও আঁতকে উঠছে না কেউই। তবে এদিন দেবরাজ ছাড় পেলেও বিজেপি নেতাদের একাংশের দাবি, প্রত্যেকটা দোষী উপযুক্ত সাজা নিশ্চয় পাবে।
