West Bengal Governor resignation
Bengal liberty desk, ৬ মার্চ :
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড়সড় ধামাকা! লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের আবহে হঠাৎই ইস্তফা দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (West Bengal Governor resignation)। আর তাঁর শূন্যস্থানে কেন্দ্রের তরফে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রাক্তন আইপিএস তথা বর্তমান তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি (R. N. Ravi) ওরফে রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে। দিল্লির মসনদ থেকে অজিত ডোভালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই প্রাক্তন গোয়েন্দাকর্তাকে বাংলায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

কে এই আর এন রবি? সাংবাদিক থেকে ‘মাস্টার অফ ইন্টেলিজেন্স’ West Bengal Governor resignation
১৯৫২ সালে বিহারের পটনায় জন্ম রবির। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করার পর কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ছিলেন একজন সাংবাদিক। কিন্তু ১৯৭৬ সালে আইপিএস (কেরল ক্যাডার) হওয়ার পর তাঁর জীবন আমূল বদলে যায়।
গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা: তিনি দীর্ঘ সময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)-তে কাজ করেছেন।
বিদ্রোহ দমন: জম্মু-কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় সফলভাবে বিদ্রোহ দমন করে তিনি কেন্দ্রের নজরে আসেন।
ডোভালের ডেপুটি: ২০১৮ সালে তিনি ভারতের ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার (Deputy NSA) নিযুক্ত হন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং দক্ষ সহকর্মী হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

নাগাল্যান্ডের শান্তি-দূত ও ‘নাগা চুক্তির’ কারিগর:
রবীন্দ্র নারায়ণ রবির কেরিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য হলো ৭০ বছরের পুরনো নাগাল্যান্ড সমস্যার সমাধান। ২০১৪ সালে তাঁকে নাগা শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী করা হয়। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক ‘নাগা ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’-এর নেপথ্যে প্রধান মস্তিষ্ক ছিলেন তিনিই। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলিকে মূলস্রোতে ফিরিয়ে এনে তিনি সেখানে শান্তির বাতাবরণ তৈরি করেন। এরপর ২০১৯ সালে তিনি নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল হন।
একনজরে আর এন রবির জীবনপঞ্জি:
জন্ম ও শিক্ষা: ১৯৫২, বিহার। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (১৯৭৪)।
ক্যাডার: ১৯৭৬ ব্যাচ আইপিএস, কেরালা ক্যাডার।
গুরুত্বপূর্ণ পদ: ডেপুটি এনএসএ, জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান, সিবিআই ও আইবি অফিসার।
শান্তি প্রক্রিয়া: নাগাল্যান্ডে ৭০ বছরের অশান্তি মিটিয়ে ‘নাগা ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ (২০১৫)-এর প্রধান কারিগর।
রাজ্যপাল পদ: নাগাল্যান্ড (২০১৯-২১), মেঘালয় (অতিরিক্ত), তামিলনাড়ু (২০২১-বর্তমান)।
তামিলনাড়ু সংঘাত: স্ট্যালিন বনাম রবি
২০২১ সালে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। ডিএমকে (DMK) শাসিত এমকে স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে তাঁর সংঘাত বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে।
বিল আটকে রাখা: বিধানসভায় পাশ হওয়া একাধিক বিল আটকে রাখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত জল গড়ায়।
অধিবেশন বয়কট: চলতি বছরেও সরকারি ভাষণ না পড়েই বিধানসভা ছাড়েন তিনি। স্ট্যালিন সরকার তাঁকে ‘জনগণের স্বার্থবিরোধী’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিল এবং রাজভবনের চা-চক্র পর্যন্ত বয়কট করেছিল।
ভোটমুখী বাংলায় রবির আগমনের তাৎপর্য
সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগের পর রবির মতো একজন ‘দুঁদে গোয়েন্দা’কে বাংলার রাজভবনে পাঠানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
১. নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি: বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া উত্তরবঙ্গে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রের উদ্বেগের মাঝে রবির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় দিল্লি।
২. কঠোর প্রশাসনিক অবস্থান: তামিলনাড়ুর মতো বাংলাতেও শাসকদলের সঙ্গে তাঁর সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল।
৩. ভোটের কৌশল: বিধানসভা ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একজন প্রাক্তন পুলিশ কর্তাকে বসানো কেন্দ্রের বিশেষ রণকৌশল হতে পারে।
.
Points to be noted
R N Ravi has also served as Dy NSA and was IB chief + he led peace talks in North East,has expertise in Counter insurgency
West Bengal needs his treatment https://t.co/G9VcFEYsXV
— Aryan Singh (@iamAryan_17) March 5, 2026
মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রতিক্রিয়া
রাজ্যপাল নিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মাধ্যমেই তিনি এই নিয়োগের খবর পেয়েছেন। আগে থেকে কোনও আলোচনা করা হয়নি বলে দাবি তাঁর। বাংলার অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবির এই ‘সেকেন্ড ইনিংস’ রাজ্য-রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
