TMC Tactics
Bengal Liberty , kolkata:
দলের অন্দরেই কোটি টাকার ঘাটতি! তৃণমূল এখন নিজের কোষাগার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে(TMC financial report 2025)। তাহলে মুখেই কি শুধু বড় বড় প্রতিশ্রুতি? রাজ্যে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার বড় বড় দাবি যতই করুক না কেন, তৃণমূলের আয়-ব্যায়ের হিসেবের খাতা কিন্তু অন্য কথাই বলছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আর্থিক রিপোর্টে স্পষ্ট, ২০২৫ বর্ষে দলের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে অনেক বেশি। ফলে বছরের শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে ধরা পড়েছে ৮ কোটি টাকারও বেশি ঘাটতি।
একদিকে আগের বছর কোটি কোটি টাকার লাভ বা উদ্বৃত্ব, অন্যদিকে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আয় কমে যাওয়া ও খরচ লাগামছাড়া বেড়ে যাওয়া- পুরোপুরি বিপরীত দুই ছবি এখন রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন তুলছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, যে দল রাজ্যের অর্থনীতি সামলানোর বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের নিজের দলীয় কোষাগারের হিসাবই এখন টাল খাচ্ছে। প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ২৪-এ তৃণমূলের কোষাগার কতটা ফলে ফুলে ভরে ছিল।

২০২৪- আয় অনেক বেশি, ব্যয় অনেক কম TMC financial report 2025
২০২৪ সালের ৩১ মার্চ শেষ হওয়া অর্থবর্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের আয়ের বড় অংশ এসেছে অনুদান থেকে। প্রথমে দেখে নেওয়া যাক আয়ের পরিসংখ্যান। ফি ও সাবস্ক্রিপশনে আয় হয়েছে ৮৪,৭৯,০০০ টাকা,অনুদানে ৬,১৮,০৮,১০,০০০ টাকা, কুপন ও প্রকাশনা বিক্রিতে ৩৬,৪১,৬৫৯ টাকা, এছাড়া অন্যান্য আয় ২৭,০৯,৮৯,৫০২ টাকা। সব মিলিয়ে মোট আয় ছিল ৬,৪৬,৩৯,২০,১৬১ টাকা
এবার দেখে নেওয়া যাক ওই বছরে ব্যয়ের পরিসংখ্যান।
নির্বাচনী ব্যয় হয়েছে ৮১,৭৪,১৭,৪৬০ টাকা, কর্মচারী খরচ ২,২৫,০৬,৫৮৯ টাকা, প্রশাসনিক ও সাধারণ খরচ ১১,০৬,৩০,৩০৭ টাকা, অ্যামর্টাইজেশনে ৭৭,৬৩,৭৬৪ টাকা, এছাড়া অন্যান্য খরচ ১,৩৫,৬৪,০৭,২৭৬ টাকা। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে ২,৩১,৪৭,২৫,৩৯৬ টাকা। সমস্ত হিসেব অনুযায়ী ২০২৪- এ ৪,১৪,৯১,৯৪,৭৬৫ টাকার উদ্বৃত্ত ছিল দলের কোষাগারে।
২০২৫ – আয় কম, ব্যয় বেড়ে বড় ঘাটতি TMC financial report 2025
পরের বছরেই ছবিটা একেবারে উল্টে যায়। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ শেষ হওয়া হিসেব অনুযায়ী দলের মোট আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, অথচ নির্বাচনী খরচ সহ অন্যান্য ব্যয় বাড়তেই থাকে।
২৫ সালে আয়ের পরিসংখ্যানে ফি ও সাবস্ক্রিপশন থেকে আয় ৯৭,৩৮,৫০০ টাকা, অনুদান থেকে আয়১,৮৪,০৮,০০,০০০ টাকা, কুপন ও প্রকাশনা বিক্রি থেকে ২৭,১১,৬৩৮ টাকা, অন্যান্য আয় ৩৪,০২,৮৮,৫২৮ টাকা। সবমিলিয়ে ২৫ সালে মোট আয় ২,১৯,৩৫,৩৮,৬৬৬ টাকা। অর্থাৎ ২৪ সালের তুলনায় তৃণমূলের ২৫ সালে আয়ের পরিমাণ ৪,২৭,০৩,৮১,৪৯৫ টাকা।
২৫ সালে ব্যয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয় ১,৩৭,৫৮,৫৪,২৭৯ টাকা, কর্মচারী খরচ ২,৭৫,৮৬,২৫৬ টাকা, প্রশাসনিক ও সাধারণ খরচ ২৪,৫৩,৩১,৯৯৪ টাকা, অ্যামর্টাইজেশন ৭৯,৬০,৪২৮ টাকা এবং অন্যান্য খরচ ৬১,৯২,৫৬,২১৭ টাকা। সব মিলিয়ে ২৫ সালের
মোট ব্যয় ২,২৭,৫৯,৮৯,১৭৩ টাকা। অর্থাৎ ২৪ সালের ব্যয়ের পরিমাণের তুলনায় ২৫ সালে ৩,৮৭,৩৬,২২৩ টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ২৪ এর তুলনায় ২৫ সালে আয়ের পরিমাণ কম থাকার ফলে বছরের শেষে দেখা যায়, ২০২৫ সালে আয়ের তুলনায় ৮,২৪,৫০,৫০৭ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
কোষাগারের ঘাটতি থাকলেও প্রতিশ্রুতির জৌলুস বিদ্যমান তৃণমূলের
সব মিলিয়ে হিসাবের খাতা যেন সবুজ শিবিরের এক অস্বস্তিকর বাস্তবই সামনে এনে দিয়েছে। তৃণমূলের নিজেদের দলের আয় ব্যয়ের হিসেবের রিপোর্টেই যখন দেখা যাচ্ছে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি এবং বছরের শেষে কোটি টাকার ঘাটতি, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দলের আর্থিক শৃঙ্খলা ঠিক কতটা মজবুত?
বিরোধীদের কটাক্ষ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার উদ্বৃত্ত থেকে সরাসরি ঘাটতিতে পৌঁছে যাওয়া- এই পরিবর্তন “অর্থ ব্যবস্থাপনায় বড় ব্যর্থতার ইঙ্গিত”।
তৃণমূলের দলের অন্দরে অনেক নেতা নিজেদের স্বার্থ ও সুবিধা নিয়েই এতটাই ব্যস্ত যে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষার মতো মৌলিক বিষয়টি গুরুত্ব হারিয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও সংগঠনের ভবিষ্যতের আগে যদি ব্যক্তিগত লাভের অঙ্কটাই বড় হয়ে ওঠে, তাহলে এমন আর্থিক অস্থিরতা বারবার সামনে আসা অস্বাভাবিক নয়। রাজনীতির ময়দানে বড় বড় দাবি করা সহজ, কিন্তু সেই দাবির ভিত্তি মজবুত করতে হলে প্রথমে নিজের ঘরের হিসাবই সঠিক রাখতে হয়। নাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, এটা কি সত্যিই দক্ষ ব্যবস্থাপনার পরিচয়, নাকি কেবলই প্রতিশ্রুতির চাকচিক্য?
