Swapna Barman election issue
Bengal Liberty, Kolkata:
রাজনীতিতে নতুন ইনিংস শুরু করতেই জটিলতায় জড়ালেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন (Swapna Barman election issue)। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরই সামনে এসেছে বড় আইনি ও প্রশাসনিক বাধা। রেলের চাকরি না ছাড়তে পারায় তাঁর ভোটে লড়া নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

কী ঘটেছে? Swapna Barman election issue
সম্প্রতি তৃণমূলে যোগ দেন স্বপ্না বর্মণ। পরে দল তাঁকে রায়গঞ্জ আসন থেকে প্রার্থী করে। তবে সমস্যার শুরু সেখান থেকেই। কারণ, তিনি রেলের কর্মী হওয়ায় নির্বাচনে লড়তে গেলে আগে সেই চাকরি ছাড়া বাধ্যতামূলক। নিয়ম মেনেই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় এগিয়ে এলেও এখনও তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেনি রেল। ফলে প্রার্থিতা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বড় সিদ্ধান্ত স্বপ্নার
এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি বেঞ্চে মামলা দায়ের করেছেন স্বপ্না। তবে ভোটে লড়তে মরিয়া স্বপ্না বর্মণ ইতিমধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, চাকরি ছাড়ার পর কোনওরকম অবসরকালীন সুবিধা বা পেনশন দাবি করবেন না। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন কর্তৃপক্ষকে ইমেল করে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।

রেলের অভিযোগ
তবে জানা গিয়েছে রেলের তরফে এই বিলম্বের পেছনে রয়েছে অন্য কারণ। জানা গিয়েছে, গত ১৬ মার্চ চাকরি ছাড়ার জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু রেলের নিয়ম অনুযায়ী, কর্মরত অবস্থায় কোনও কর্মী রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে বা দলের হয়ে প্রচার চালাতে পারেন না। অথচ অভিযোগ, চাকরি ছাড়ার আগেই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শাসকদলে যোগ দেন স্বপ্না বর্মণ। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়, যা ৯ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে। সেই তদন্ত চলাকালীন এক সপ্তাহ পরে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া চলার কারণে তাঁর ইস্তফা আপাতত গ্রহণ করা হয়নি রেলের পক্ষ থেকে।
ব্যক্তিগত দুঃসময়ের মাঝেই লড়াই
এই আইনি জটিলতার মধ্যেই ব্যক্তিগত দুঃখের সঙ্গেও লড়তে হচ্ছে তাঁকে। সম্প্রতি বাবাকে হারিয়েছেন স্বপ্না। শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ফলে মানসিকভাবেও কঠিন সময়ের মধ্যে রয়েছেন এই ক্রীড়াবিদ।
