WB Election 2026
Bengal Liberty, Kolkata :
প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর তরজা WB Election 2026। একদিকে বিজেপি নেতৃত্ব উচ্চ ভোটদানের হারকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে সেই দাবিকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন মোদি ও শাহকে সমাজ মাধ্যমে নিশানা করে নিজের আসল রুপ বহিঃপ্রকাশ করলেন ডেরেক ও’ব্রায়েনে!

ডেরেকর পোষ্ট WB Election 2026
এক্স হ্যান্ডেলে ডেরেক তাঁর পোস্টে ২০২১ এবং ২০২৬ সালের প্রথম দফার ভোটের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে মোট ভোটার ছিল প্রায় ৩.৬৭ কোটি এবং প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোট পড়ায় মোট ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩.১০ কোটি। কিন্তু এরপর স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর ফলে ভোটার তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে সেই তালিকা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৩.৩৩ কোটিতে। যদিও এ বছর প্রথম দফায় ভোটের হার বেড়ে ৯২.৭০ শতাংশ হয়েছে, তবুও মোট সংগৃহীত ভোট প্রায় ৩.০৯ কোটি যা ২০২১ সালের তুলনায় ৮৩,৬৭৪ কম। অর্থাৎ, ২০২১-এর তুলনায় শতাংশে নিরিখে বেশি হলেও সংখ্যায় এবার ৮৩,৬৭৪টি ভোট কম পড়েছে।
তৃণমূল সাংসদের দাবি, ভোটদানের শতাংশ এবার অনেক বেশি দেখাচ্ছে শুধুমাত্র ভোটার তালিকার আকার ছোট হয়ে যাওয়ার কারণে। ডেরেক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “ভোট শতাংশের এই বৃদ্ধি নিছকই অংকের খেলা। ভোটার তালিকা ছোট হওয়ায় শতাংশ বেশি দেখাচ্ছে, কিন্তু প্রকৃত মানুষের অংশগ্রহণ বাড়েনি, বরং কমেছে।”
তবে বিজেপির বক্তব্য, এই যুক্তি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ভোটদানের শতাংশই গণতন্ত্রে মানুষের অংশগ্রহণের সবচেয়ে বড় সূচক। ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়া মানেই সাধারণ মানুষ বিপুলভাবে ভোট দিতে বেরিয়েছেন যা স্পষ্টভাবে পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
মোদি ও অমিত শাহকে টার্গেট ডেরেক ও’ব্রায়েনের
উল্লেখ্য এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করেও তিনি লেখেন, “অমিত, আপনাকে এক্সপোজ করা খুব সহজ।” তাঁর অভিযোগ, ৯২ শতাংশের বেশি ভোটদানের হারকে নিজেদের পক্ষে ব্যাখ্যা করে বিজেপি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
এছাড়াও আজ তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে একটি পোষ্ট করেন। তিনি লেখেন, “নরেন্দ্র, আপনি ঘোষণা করেছিলেন যে আপনিই বাংলার ২৯৪টি আসনের প্রার্থী। বড় কথা বলা বন্ধ করুন। আগামী ৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল বাংলা জেতার পর চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করুন: প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিন।” ডেরেকের এই আক্রমণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তৃণমূল এই লড়াইকে শুধুমাত্র বিধানসভা নির্বাচন হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে মোদি বনাম মমতার অস্তিত্বের লড়াই হিসেবেই তুলে ধরছে।
অন্যদিকে গেরুয়া শিবিরের দাবি, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটের ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতে ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনীতি করছে। তাদের কথায়, উন্নয়ন, দুর্নীতি ও শাসনব্যবস্থার প্রশ্নে জবাব দিতে না পেরেই এই ধরনের চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া হচ্ছে।
