Election Commission action
Bengal Liberty, Kolkata:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার প্রাক্কালে রাজ্য প্রশাসন রবিবার এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করলেন Election Commission action। একযোগে রাজ্যের ১৭০টি থানার ওসিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু পুলিশ প্রশাসনই নয়, বড়সড় রদবদল ঘটানো হয়েছে প্রশাসনিক স্তরেও। মোট ৮৩টি ব্লকের বিডিও এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের (ARO) বদলি করে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ভোটের আগে কোনও রকম পক্ষপাত বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
বিশেষ নজর পড়েছে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কেন্দ্রগুলিতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর কেন্দ্র ভবানীপুর এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রাম – উভয় জায়গাতেই ওসি পরিবর্তন করা হয়েছে। ভবানীপুর থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কলকাতা পুলিশের এসটিএফ-এ কর্মরত সৌমিত্র বসু, আর নন্দীগ্রামে দায়িত্বে এসেছেন চন্দননগর থানার শুভব্রত নাথ। পাশাপাশি শীতলকুচি, দিনহাটা, ইঁটাহার এবং চোপড়ার মতো সংবেদনশীল এলাকাতেও ওসি বদল করা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল
পুলিশ প্রশাসনের এই বড়সড় রদবদলে মোট ১৮৪ জন আধিকারিককে সরানো হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জন উচ্চপদস্থ অফিসার রয়েছেন। কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানাতেও নতুন মুখ আনা হয়েছে—আলিপুরে প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, একবালপুরে দিলীপ সরকার, হরিদেবপুরে ফয়েজ আহমেদ, মানিকতলায় নিরূপম নাথ এবং আমহার্স্ট স্ট্রিটে শুভদীপ চক্রবর্তী নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, মানিকতলা থানার ক্ষেত্রে প্রথমে অভিজিৎ মণ্ডলের নাম ঘোষণা হলেও পরে কমিশন তা সংশোধন করে নিরূপম নাথের নাম চূড়ান্ত করে।
আরও পড়ুন – সুপ্রিম কোর্টের নজরে ভোটার তালিকা সংশোধন! চতুর্থ তালিকাতেও বাড়ছে ধোঁয়াশা
প্রশাসনিক স্তরে বড় পরিবর্তন
প্রশাসনিক স্তরেও বড়সড় বদল ঘটানো হয়েছে। ৮৩ জন বিডিও এবং এআরওকে বদলি করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। এখানে একসঙ্গে ১৪ জন বিডিও বদলি হয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, যেখানে ১১ জন বিডিওর রদবদল হয়েছে। এছাড়াও মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিককেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের নিয়োগ নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। আরজি কর কাণ্ডের সময় টালায় কর্মরত এই আধিকারিককে প্রথমে মানিকতলার দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরে কমিশন জানায়, তা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ছিল। তিনি পর্ণশ্রী থানাতেই নিজের দায়িত্বে বহাল থাকবেন এবং মানিকতলার দায়িত্বে থাকবেন নিরূপম নাথ।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই বৃহৎ প্রশাসনিক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রশাসনিক কাঠামোয় এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
