Tollywood safety issue
Bengal Liberty, Kolkata :
দীঘা তালসারির মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে সামনে আসছে আরও বিস্ফোরক তথ্য Tollywood safety issue। অনুমতি ছাড়া সমুদ্রের জলে শুটিং, নিরাপত্তার অভাব এবং হঠাৎ তৈরি হওয়া বিপজ্জনক পরিস্থিতি— সবকিছু মিলিয়ে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ উঠছে প্রোডাকশন টিমের বিরূদ্ধে

ঠিক কী ঘটেছে? Tollywood safety issue
তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে ধোঁয়াশা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রোডাকশন ইউনিট কোনও সরকারি অনুমতি ছাড়াই সমুদ্রের অগভীর জলে শুটিং করছিল। বিশেষ করে জলভাগে শুটিংয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও ওড়িশা পুলিশের অনুমতি বাধ্যতামূলক হলেও, সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ।
শুধু অনুমতির অভাব নয়, শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত সীমিত। ঘটনাস্থলে কোনও লাইফগার্ড বা পর্যাপ্ত সেফটি সাপোর্ট ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, জলে শুটিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়নি।
উল্লেখ্য ঘটনার দিন একটি নাচের দৃশ্যের শুটিং চলছিল শ্বেতা – রাহুলের। সমুদ্রের জলে দাঁড়িয়েই দৃশ্য করা হচ্ছিল। সেই সময় আচমকাই পায়ের নীচে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন দুই অভিনেতা অভিনেত্রী । পরে জানা যায়, যেখানে তাঁরা দাঁড়িয়ে ছিলেন, ঠিক সেখানেই ছিল একটি গভীর গর্ত বা খাঁদ, যা বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না।
অভিনেত্রী কোনওরকমে নিজেকে সামলে নিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছতে সক্ষম হন। কিন্তু রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় সেই গর্তে পড়ে গিয়ে জলের স্রোতে আরও ভেতরে টেনে নিয়ে যায় বলে অনুমান। ইউনিটের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজ শুরু করলেও, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
স্থানীয় কিছু মৎস্যজীবী ও উপস্থিত ব্যক্তিরা দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজে সাহায্য করেন। অবশেষে তাঁকে জলের বাইরে তোলা হলেও, ততক্ষণে অবস্থার অবনতি ঘটে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রেক্ষাপট
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে ওড়িশা পুলিশ। তালসারি থানার পাশাপাশি দীঘা পুলিশের সঙ্গেও যৌথভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে। প্রোডাকশন টিমের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া শুটিং, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং অবহেলার অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুটিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কড়া নিয়ম প্রয়োগের কথাও ভাবা হচ্ছে।
একটি শুটিং, কয়েক মুহূর্তের অসতর্কতা আর তারই মাশুল এক অমূল্য প্রাণ। তালসারির এই দুর্ঘটনা শুধু শোক নয়, বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল গোটা ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর।
