Bengal Liberty, ১ মে :
২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে (Election Result Counting)। এখন গোটা রাজ্যের নজর একটাই-ফলাফল ঘোষণা। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোটারদের রায় ইতিমধ্যেই ইভিএম ও ভিভিপ্যাটে সুরক্ষিত রয়েছে। সেই ফলাফল সামনে আসবে আগামী ৪ মে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া গণনার মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তা ও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে চলবে এই প্রক্রিয়া-প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, তারপর ইভিএমের ভোট গণনা। বুথফেরত সমীক্ষায় টানটান লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিললেও, চূড়ান্ত ফলই ঠিক করবে আগামী দিনে রাজ্যের ক্ষমতার রাশ কার হাতে যাবে। তার আগে জেনে নিন কতটা স্বচ্ছতার সাথে গণনার জন্য ঠিক কী কী ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে (Election Result Counting)।

কখন কীভাবে জানা যাবে ফল (Election Result Counting)
সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোট গণনা। প্রথমেই পোস্টাল ব্যালটের ভোট গোনা হবে, তারপর ধাপে ধাপে ইভিএমের ভোট গণনা শুরু হবে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে সাধারণত ১৪টি টেবিলে একসঙ্গে গণনা চলে এবং প্রতিটি টেবিলের একটি করে গণনা শেষ হলেই সেটিকে এক রাউন্ড ধরা হয়। গণনা শুরুর প্রায় চার ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ দুপুর ১২টার মধ্যে ফলাফলের প্রাথমিক ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তবে যেসব কেন্দ্রে প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই খুব হাড্ডাহাড্ডি হবে, সেখানে শেষ ফল জানতে সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

স্ট্রংরুমে কড়া নিরাপত্তা (Election Result Counting)
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সমস্ত ইভিএম ও ভিভিপ্যাট মেশিন এখন স্ট্রংরুমে সুরক্ষিতভাবে রাখা হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তার কোনও ফাঁক রাখা হয়নি। স্ট্রংরুম পাহারায় ২০০ এর বেশি কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং প্রতিটি জায়গায় অন্তত ২৪ জন করে জওয়ান দায়িত্বে রয়েছেন। সারাক্ষণ সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি চলছে, যাতে কোনওরকম অনিয়ম বা সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এছাড়াও, স্ট্রংরুমে ঢোকা-বেরোনোর জন্য রয়েছে ‘ডবল লক’ ব্যবস্থা এবং প্রতিটি গতিবিধি নির্দিষ্ট খাতায় নথিভুক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও স্ট্রংরুমের বাইরে থেকে নজরদারি করার সুযোগ পাচ্ছেন, ফলে গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে।

গণনাকেন্দ্রে কড়া বিধিনিষেধ (Election Result Counting)
ভোট গণনার দিন গণনাকেন্দ্রগুলিকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়, যাতে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে। কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও যানবাহন প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। গণনাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি থাকছে শুধুমাত্র রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং কর্মী, প্রার্থী বা তাঁদের অনুমোদিত এজেন্ট এবং নির্বাচন কমিশনের বৈধ পরিচয়পত্রধারীদের। এবার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে পরিচয়পত্রের সঙ্গে কিউআর কোড যুক্ত করা হয়েছে, যা স্ক্যান করার পরেই প্রবেশের অনুমতি মিলবে। এছাড়া গণনাকক্ষে মোবাইল ফোন বা কোনও ধরনের অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। গোটা গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাধ্যতামূলকভাবে ভিডিওগ্রাফিও করা হবে।
Suvendu Adhikari: “মব পোলিংয়ের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের ৫০ জন এজেন্ট ছিল না”@SuvenduWB @BJP4Bengal @bengalliberty1 @MamataOfficial @AITCofficial #WestBengalLegislativeAssemblyelection2026 #westbengalnews #westbengalpolitics #westbengal #bengalliberty pic.twitter.com/6fVgKdXeeQ
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 30, 2026

ধাপে ধাপে গণনার প্রক্রিয়া (Election Result Counting)
ভোট গণনার সময় ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটে থাকা ‘রেজাল্ট’ বোতাম চাপলেই প্রতিটি বুথে কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তা সামনে আসে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করা হয়। গণনার সময় মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফর্ম ব্যবহার করা হয়। ফর্ম ১৭সি-তে প্রতিটি বুথের ভোটের বিস্তারিত হিসাব, এমনকি নোটায় কত ভোট পড়েছে তাও নথিভুক্ত থাকে। অন্যদিকে ফর্ম ২০ হল চূড়ান্ত ফলাফলের নথি, যেখানে পুরো কেন্দ্র জুড়ে সব প্রার্থীর মোট প্রাপ্ত ভোট উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু বুথের ভিভিপ্যাট স্লিপ গুনে ইভিএমের ফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এর মাধ্যমে গোটা গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা হয়।
