Rahul Arunoday Banerjee
Bengal Liberty Desk, ৩০ মার্চ, কলকাতা: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর নিথর দেহ পৌঁছল নিজের বাড়িতে। প্রিয় ‘বাবিন’-কে শেষবার দেখতে সকাল থেকেই উপচে পড়ল মানুষের ভিড়। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে অনুরাগী—সবার চোখে একই অবিশ্বাস, একই শোক।
আবেগে ভাসল পাড়া (Rahul Arunoday Banerjee)

বিজয়গড়ের সেই চেনা পাড়া আজ যেন একেবারে অন্য রূপে। গত রাত থেকেই নেমে এসেছিল অদ্ভুত নীরবতা, আর আজ সকাল হতেই সেই নীরবতা ভেঙে পড়েছে কান্নার শব্দে। ফুলে মোড়া শববাহী গাড়িতে করে যখন রাহুলের দেহ বাড়িতে আনা হয়, তখন চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের চোখের জল আর থামেনি।
শেষবারের মতো ‘বাবিন’-কে দেখতে ঢল (Rahul Arunoday Banerjee)
স্থানীয়দের কাছে রাহুল শুধু একজন অভিনেতা নন, ছিলেন তাঁদেরই ‘বাবিন’। তাই তাঁর নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছতেই ভিড় জমায় পাড়া-প্রতিবেশীরা। অনেকেই বিশ্বাসই করতে পারছেন না, যাঁকে এতদিন পর্দায় দেখেছেন, তাঁকেই আজ এভাবে শেষবারের মতো দেখতে হবে।
টলিউডে শোকের ছায়া (Rahul Arunoday Banerjee)
এক এক করে বাড়িতে পৌঁছেছেন ইন্ডাস্ট্রির বহু পরিচিত মুখ। উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, উষসী চক্রবর্তী, রূপাঞ্জনা মৈত্র, চৈতী ঘোষাল, সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং রুকমা রায়-সহ আরও অনেকে। সহকর্মীদের অনেকেই স্পষ্ট জানিয়েছেন—এই মৃত্যু মেনে নেওয়া তাঁদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা (Rahul Arunoday Banerjee)?
গতকাল, রবিবার বিকেলে শুটিং চলাকালীন হঠাৎই জলে তলিয়ে যান অভিনেতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ময়নাতদন্তে প্রাথমিক ইঙ্গিত (Rahul Arunoday Banerjee)
যদিও চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, হাসপাতাল সূত্রে খবর—ফুসফুসে নোনাজল ঢুকে পড়েছিল, বালির উপস্থিতিও মিলেছে যার ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, হৃদস্পন্দন থেমে যায়। এই প্রাথমিক তথ্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে, জলে ডুবে যাওয়ার ঘটনাই মৃত্যুর মূল কারণ হতে পারে!
আরও পড়ুন-
Tollywood safety issue: অনুমতি ছাড়া জলে শুটিং, গোপন গর্তে পা পিছলে বিপর্যয়! তালসারি কাণ্ডে কড়া তদন্তে পুলিশ
Suvendu Samik reaction: রাহুলের মৃত্যুতে নেমে এল শোকের ছায়া, শোকবার্তায় শুভেন্দু-শমীক!
একদিকে প্রিয় অভিনেতার অকাল প্রয়াণ, অন্যদিকে একের পর এক অজানা প্রশ্ন সব মিলিয়ে শোক আর রহস্যে ঢেকে গিয়েছে গোটা ঘটনা। বিজয়গড়ের মানুষ আজও বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁদের চেনা ‘বাবিন’ আর কোনওদিন ফিরবেন না।
শেষবারের মতো বাড়িতে ফেরা—কিন্তু এ যেন চিরবিদায়। চোখের জলে ভাসছে পাড়া, আর স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়।
