Mofakkarul Photo Controversy
Bengal Liberty, ৩ এপ্রিল :
মালদার অশান্তিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে ‘ছবি যুদ্ধ’ (Mofakkarul Photo Controversy)। ধৃত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে শাসক দল ও বিরোধী শিবির একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ছবি সামনে এনে বিজেপি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর যোগের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে তৃণমূল পাল্টা দাবি করেছে, গোটা ঘটনাই বিজেপির পরিকল্পিত চক্রান্ত। ভোটের মুখে এই ‘ছবি-রাজনীতি’ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ, আর প্রকৃত সত্য উদঘাটন এখন তদন্তকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Mofakkarul Photo Controversy)।

বিজেপির অভিযোগ (Mofakkarul Photo Controversy)
বিজেপির আইটি সেলের প্রধান ও সাংসদ অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডলে একটি ছবি পোস্ট করে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন। সেই ছবিতে ধৃত মোফাক্কেরুল ইসলামকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবি পোস্ট করে মালব্যর অভিযোগ, মোফাক্কেরুল সাধারণ কেউ নন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলেও যাতায়াত করতেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর সভামঞ্চেও তাঁকে দেখা গিয়েছে বলেও দাবি বিজেপির।
Advocate Mofakkarul Islam, accused as the mastermind behind the Kaliachak, Malda case, was arrested by the West Bengal Police at Bagdogra Airport while attempting to flee.
What raises serious questions is the existence of multiple photographs showing him with Mamata Banerjee. In… pic.twitter.com/0OjujnQ591
— Amit Malviya (@amitmalviya) April 3, 2026
এই ঘটনাকে ঘিরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক ও দলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতির সঙ্গে মোফাক্কেরুলের সম্পর্ক কী, তা খতিয়ে দেখা দরকার। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মোফাক্কেরুল ইসলাম ইটাহার কেন্দ্র থেকে AIMIM-এর প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন। তবুও তাঁর রাজনৈতিক যোগ নিয়ে তরজা অব্যাহত।

তৃণমূলের পাল্টা দাবি (Mofakkarul Photo Controversy)
বিজেপির অভিযোগের পরই তৃণমূলের দাবি, বাংলার পরিস্থিতি অশান্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ‘মাল্টি-লেয়ার এজেন্ট’ ব্যবহার করা হচ্ছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে তিনজনের নাম সামনে আনা হয়েছে- বিহারের এক বিজেপি নেতার স্বামী ও পুলিশ অবজার্ভার জয়ন্ত কান্ত, স্থানীয় আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি কাদরি এবং মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলাম। তারপরই একরকম বিজেপির ঘাড়ে বন্দুক ঠেকিয়ে তৃণমূলের দাবি, এই ঘটনার পিছনে থাকা সমস্ত যোগসূত্র তারা খতিয়ে দেখেছে এবং প্রতিটি ‘ডট’ মিলিয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে, গোটা অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে বিজেপির পরিকল্পনা। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আবারও শাসক দলের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে চিহ্নিত করা হয়েছে।
EXPOSED!
These are the three @BJP4India agents who orchestrated the unrest in Malda:
1️⃣ Jayant Kant – Police Observer of Mothabari, Malda. He is the husband of a senior BJP leader from Bihar.
2️⃣ Maulana Muhammad Shahjahan Ali Qadri — ISF candidate from Mothabari. Arrested on… pic.twitter.com/aEitFTV7hK
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) April 3, 2026
মালদার ঘটনাকে ঘিরে শুরু হওয়া এই ছবি-রাজনীতি ইতিমধ্যেই বাংলার নির্বাচনি উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ধৃত আইনজীবী ঠিক কোন রাজনৈতিক শিবিরের হয়ে উসকানি দিচ্ছিলেন, তা এখন তদন্তকারীদের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। এদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেই ভোট। এমন পরিস্থিতিতে এই ঘটনাকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সব রাজনৈতিক দলই। অভিযোগ-প্রত্যাঘাতের এই লড়াইয়ে মালদা কাণ্ড এখন কার্যত নির্বাচনের তুরুপের তাস হয়ে উঠছে।
