Manoj Agarwal CEO
Bengal Liberty, Kolkata :
প্রশাসনের নজর এখন আরও তীক্ষ্ণ। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে শুধুমাত্র দপ্তরের বৈঠক নয়, সরাসরি মাঠে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন Manoj Agarwal CEO । অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে পূর্ব মেদিনীপুরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র জেলায় সরাসরি পৌঁছে ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—ভোট হবে সম্পূর্ণ নির্ভয়ে, কোনওভাবেই আতঙ্ক ছড়াতে দেওয়া হবে না।

সরজমিনে নেমে কমিশনের নজরদারি
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি পর্যালোচনায় নেমেছে নির্বাচন কমিশন। তারই অংশ হিসেবে পূর্ব মেদিনীপুরে পৌঁছে প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন সিইও। এই জেলা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে নির্বাচন ঘিরে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিশন বিশেষ সতর্কতা নিচ্ছে।
ম্যারাথন বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও প্রস্তুতির খুঁটিনাটি
প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে জেলার সামগ্রিক নির্বাচন প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এডিজি, ডিআইজি, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রের পরিস্থিতি বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে আলাদা নজর
দ্বিতীয় দফায় জেলার ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন সিইও। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রস্তুতি, বিশেষ করে অতীতে হিংসাপ্রবণ এলাকাগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কমিশনের লক্ষ্য স্পষ্ট—যেখানে আগে সমস্যা হয়েছে, সেখানেই এবার সবচেয়ে বেশি নজরদারি।
‘কোনও আতঙ্ক নয়’, কড়া বার্তা কমিশনের
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই জেলায় প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন এবং প্রত্যেকেই নিজের মত করে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। তিনি বলেন, কোনও ধরনের ভয় বা চাপ সৃষ্টি হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি ভোটার যাতে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রথম লক্ষ্য।
এলাকা পরিদর্শনে নেমে পড়লেন সিইও মনোজ আগারওয়াল
নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার। শুধু দপ্তরের বৈঠকেই সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি মাঠে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুরু করলেন সিইও মনোজ আগারওয়াল। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নিজে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে ইতিমধ্যেই। জেলাশাসককে সঙ্গে নিয়েই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিদর্শনে যাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় পরিস্থিতি বুঝে নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন সিইও, শুনছেন তাঁদের সমস্যার কথাও। প্রশাসনের এই সক্রিয় উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করবে। মাঠে নেমে সরাসরি পরিস্থিতি বোঝার এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
২০২১-এর অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই কড়া প্রস্তুতি
গত বিধানসভা নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ের হিংসার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। যে সব এলাকায় আগে অশান্তি হয়েছিল, সেগুলিকে ‘হাই-রিস্ক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, অনেক জায়গায় ভোটারদের ভয় দেখানো হয় এই অভিযোগ মাথায় রেখেই এবার আরও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
নির্বাচনকে ঘিরে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। মাঠে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার এই উদ্যোগে বাড়ছে প্রশাসনিক কড়াকড়ি, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থাও । বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি পূর্ব মেদিনীপুরে কমিশনের এই সক্রিয়তা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে এবার কোনওরকম অনিয়ম বা সন্ত্রাস বরদাস্ত করা হবে না। ভোটকে কেন্দ্র করে যাতে সাধারণ মানুষের উপর কোনও চাপ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে কাজ করছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কড়া অবস্থানই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশা আরও জোরদার করছে।
