Attack on Amir Hamza 2026
Bengal Liberty, Kolkata:
পাকিস্তানের মাটি যে আর সন্ত্রাসবাদীদের জন্য নিরাপদ স্বর্গরাজ্য নয়, তার আরও এক বড় প্রমাণ মিলল লাহোরে। ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের অন্যতম পাণ্ডা এবং কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমির হামজার (Attack on Amir Hamza 2026) ওপর চলল প্রাণঘাতী হামলা। লাহোরের রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়ে বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এই প্রবীণ জঙ্গি নেতা।

ঘটনার বিবরণ (Attack on Amir Hamza 2026)
জানা গিয়েছে, লাহোরের একটি নিউজ চ্যানেল অফিসের বাইরে যখন হামজা দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখনই বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। অত্যন্ত জনবহুল এলাকায় এই হামলার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, ৬৬ বছর বয়সী এই জঙ্গি নেতার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত এক বছরের মধ্যে এটি হামজার ওপর দ্বিতীয় হামলা। এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসেও তার বাড়ির সামনে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। সেই সময় পাকিস্তান প্রশাসন ঘটা করে তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিলেও, এবারের হামলা গোয়েন্দা ব্যর্থতাকেই বড় করে সামনে নিয়ে আসছে।

কে এই আমির হামজা? (Attack on Amir Hamza 2026)
জঙ্গি দমনে আন্তর্জাতিক মহলে আমির হামজা একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং বিপজ্জনক নাম। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে হাফিজ সাঈদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি লস্কর-ই-তৈবা গড়ে তুলেছিলেন। হাফিজ সাঈদের পর লস্করের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি হিসেবে তাকেই মানা হয়। ১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তি নব্বইয়ের দশকে আফগান মুজাহিদ হিসেবে পরিচিতি পান। পরবর্তীকালে তিনি লস্করের বৈাদর্শিক প্রচার এবং অর্থ সংগ্রহের মূল দায়িত্ব পান। তার উস্কানিমূলক ভাষণ এবং লেখার মাধ্যমে কয়েক হাজার যুবককে সন্ত্রাসবাদের পথে চালিত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সংগঠনের অন্দরে হামজার বহুমুখী ভূমিকা (Attack on Amir Hamza 2026)
লস্কর-ই-তৈবার ভেতরে হামজার অবস্থান ছিল অত্যন্ত মজবুত। তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতেন। হাফিজ সাঈদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তিনি সংগঠনের বৈদেশিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতেন। বিশেষ করে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে নাশকতামূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ এবং রণকৌশল নির্ধারণে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত।

হামজার আরও একটি বড় শক্তি ছিল তার কলম। তিনি লস্করের প্রোপাগান্ডা উইং বা প্রচার শাখার প্রধান ছিলেন। সংগঠনের নিজস্ব সাপ্তাহিক সংবাদপত্র সম্পাদনা করার পাশাপাশি তিনি উগ্রবাদী মতাদর্শ নিয়ে একাধিক বই লিখেছেন। ২০২২ সালে প্রকাশিত তার গ্রন্থ ‘কাফিলা দাওয়াত অর শাহাদাত’ জঙ্গি মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। এ ছাড়াও, বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা এবং ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের আড়ালে জঙ্গি অর্থায়নের কালো সাম্রাজ্য সামলাতেন তিনি। এমনকি ২০১০ সালে আটক হওয়া জঙ্গিদের ছাড়িয়ে আনার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও তার নাম উঠে এসেছিল।
নিষিদ্ধ হওয়ার পর নতুন কৌশল (Attack on Amir Hamza 2026)
২০১৮ সালে পাকিস্তান সরকার যখন আন্তর্জাতিক অর্থ তছরুপবিরোধী সংস্থা FATF-এর চাপে পড়ে লস্করের আর্থিক উৎসগুলি বন্ধ করতে শুরু করে, তখন আমির হামজা এক অদ্ভুত চাল চালেন। তিনি ঘোষণা করেন যে তিনি লস্কর ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর তিনি ‘জৈশ-ই-মানকাফা’ নামে একটি পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করেন। তবে গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি ছিল কেবল একটি চোখের ধুলো দেওয়ার কৌশল। প্রকৃতপক্ষে এই স্প্লিন্টার গ্রুপের নামেই তিনি লস্করের জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং কাশ্মীর সীমান্তে অনুপ্রবেশের ছক কষতেন।
Amit Shah: জনগণনার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে – লোকসভায় মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর@bengalliberty @AmitShah @BJP4India @SuvenduWB @BJP4Bengal @MamataOfficial @AITCofficial #bengalliberty #westbengalelection2026 #westbengalnews #westbengalpolitics #westbengal #amitshah pic.twitter.com/Wrk8I76a8w
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 16, 2026
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি (Attack on Amir Hamza 2026)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহু আগেই আমির হামজাকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ভারতও তাকে একাধিক জঙ্গি নাশকতার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত করে। লাহোরের এই হামলার পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া হাফিজ সাঈদ বা দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। রহস্যময় এই সব খুনের বা হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের আইএসআই (ISI) চূড়ান্ত চাপে রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, লস্কর-ই-তৈবার মতো সংগঠনের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমির হামজার মতো প্রভাবশালী মতাদর্শীকে নিকেশ করা একটি বড় পদক্ষেপ। বর্তমানে আমির হামজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও, তার অনুপস্থিতি লস্করের সাংগঠনিক কাঠামোকে বড়সড় ক্ষতির মুখে ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
লাহোর পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কোনো গ্রেফতারি হয়নি। তবে এই হামলার ধরণ দেখে স্পষ্ট যে, অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমেই এই অপারেশন চালানো হয়েছে। এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এবং জঙ্গি দমন অভিযানে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
