bike restriction
Bengal liberty desk,25 এপ্রিল, কলকাতা:
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বাইক চালানো নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, শুক্রবার তাতে বড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট bike restriction। নির্বাচন কমিশন বাইক চলাচলের ওপর যে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্ল্যাঙ্কেট ব্যান’ জারি করেছিল, তা খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আদালতের স্পষ্ট বার্তা—ভোটের স্বার্থে অশান্তি রুখতে বাইক র্যালি বন্ধ করা ঠিক আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষকে যাতায়াতে হয়রানি করা যাবে না।

এখন থেকে বাইক চালানোর নতুন নিয়মগুলো কী কী? bike restriction
সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:
বিনা বাধায় যাতায়াত, অর্থাৎ ভোটের দু’দিন আগে থেকে বাইক চলাচলের ওপর যে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা আর থাকছে না। অফিসযাত্রী বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাইক চালানো যাবে, তবে সঙ্গে সঠিক পরিচয়পত্র (ID Card) থাকা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলো কোনোভাবেই বাইক র্যালি বা মিছিল করতে পারবে না। অশান্তি রুখতে ভোটের দু’দিন আগে থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে আদালত। ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে থেকে বাইকের পেছনে সাধারণত কাউকে বসানো যাবে না। তবে জরুরি কাজ, যেমন—চিকিৎসা, সামাজিক অনুষ্ঠান বা স্কুলপড়ুয়াদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না।

ভোটের দিনের নিয়ম:
ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাইকে করে ভোট দিতে যেতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।
অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবা:
ওলা, উবার, জোম্যাটো বা সুইগির মতো বাইক পরিষেবা প্রদানকারীরা এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবেন। তাঁরা সাধারণভাবেই কাজ করতে পারবেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মন্তব্য করেন যে, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা থাকলেও তা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। মানুষকে অযথা হয়রানি করা অসাংবিধানিক। সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করে এমন ঢালাও নিষেধাজ্ঞা কমিশন জারি করতে পারে না।
অর্থাৎ, আপনি যদি সাধারণ বাইক আরোহী হন এবং আপনার কাছে সঠিক পরিচয়পত্র থাকে, তবে অফিস বা ব্যক্তিগত কাজে যাতায়াত করতে আপনাকে আর পুলিশের ঝক্কি পোহাতে হবে না। শুধু খেয়াল রাখবেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে যেন কোনো মিছিল বা জটলা তৈরি না হয়।
