Maan ki baat
Bengal Liberty, Kolkata :
দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে এক যুগ। ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’ আজ পা রাখল ১৩৩তম পর্বে Maan ki baat। রবিবার ২৬ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আবহেই দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। জনগণনায় নাগরিকদের দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য কতটা নিরাপদ? কিংবা বিশ্বজুড়ে চলা জ্বালানি সঙ্কটের মাঝে ভারতের বিকল্প শক্তির পরিকল্পনা কী? এই সব প্রশ্নেরই আজ সোজাসাপ্টা উত্তর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

জনগণনা ২০২৭ এর তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড় আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Maan ki baat
আসন্ন ২০২৭ সালের জনগণনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এদিন সেই আশঙ্কা দূর করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণনার সময় নাগরিকদের দেওয়া সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং গোপন থাকবে।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, তথ্য ফাঁস হওয়ার কোনো ভয় নেই। এবারের জনগণনা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল, যেখানে সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য রেকর্ড করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, জনগণনা কেবল একটি সরকারি প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের সঠিক উন্নয়নের জন্য প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

জ্বালানি সংকট ও বিকল্প শক্তির গুরুত্ব
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত যাতে আত্মনির্ভর হতে পারে, তার জন্য অচিরাচরিত বা বিকল্প শক্তির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মোদি। তিনি দেশবাসীকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং দূষণহীন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বায়ুশক্তি উৎপাদনে ভারতের মেগা সাফল্য
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন দেশের পরিবেশবান্ধব শক্তি বা গ্রিন এনার্জির এক অভাবনীয় সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারত বর্তমানে বায়ুশক্তি উৎপাদনে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। মোদির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বর্তমান বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ইতিমধ্যেই ৫৬ গিগাওয়াট পার করে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। উন্নয়নের গতি তুলে ধরে তিনি আরও জানান যে, শুধুমাত্র গত এক বছরেই ভারতের জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৬ গিগাওয়াট নতুন বায়ুশক্তি যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যা ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা পালন করছে। তবে এখানেই থেমে থাকতে নারাজ কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী আগামী দিনের এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে এই উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াট এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে তা ১৫৬ গিগাওয়াট-এ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ভারত। অচিরাচরিত শক্তির এই জয়যাত্রা দেশকে আত্মনির্ভর করার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কমাতেও সহায়ক হবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী।

২০৭০-এর লক্ষ্য নেট-জিরো ভারত
প্রধানমন্ত্রী এদিন মনে করিয়ে দেন যে, সৌর এবং বায়ুশক্তি কেবল পরিবেশের বিষয় নয়, এটি ভারতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার অঙ্গীকার। ২০৭০ সালের মধ্যে ভারতকে পুরোপুরি কার্বন নিঃসরণ মুক্ত (Net-Zero) করার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, তাতে এই বিপুল পরিমাণ বায়ুশক্তি উৎপাদন সবথেকে বড় ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই যাত্রায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি।

সব মিলিয়ে, ১৩৩তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একদিকে যেমন ডিজিটাল জনগণনার মাধ্যমে মানুষকে আশ্বাস দিলেন অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত ভারতের রোডম্যাপও স্পষ্ট করলেন। নাগরিকদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং জ্বালানি স্বনির্ভরতা এই দুই স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই আগামীর উন্নত ভারতের স্বপ্ন দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আগামী দিনে দেশকে কত দ্রুত এই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দেয়।
