TMC campaign
Bengal Liberty, Kolkata :
মুখে বাঙালির ‘অস্মিতা’ আর ‘বাঙালি আবেগ’ অথচ কাজের বেলায় সেই ভিনরাজ্যের নেতারাই এখন তৃণমূলের শেষ ভরসা? বিজেপি নেতাদের ‘বহিরাগত’ বলে বারবার দাগিয়ে দেওয়া তৃণমূল কংগ্রেস কি এখন নিজেই সেই ‘বহিরাগত’দের পায়ে শরণাপন্ন? TMC campaign সম্প্রতি বরাহনগরে তেজস্বী যাদব আর বালিগঞ্জে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রচার ঘিরে এই প্রশ্নই এখন ঝড়ের বেগে ঘুরছে বাংলার রাজনৈতিক অলিন্দে।

নিজের অস্ত্রেই কি ঘায়েল শাসকদল? TMC campaign
শনিবার বরাহনগরে তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। এবং আজ বঙ্গে পা রেখেছেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তিনি বালিগঞ্জে তৃনমূলের সমর্থনের প্রচারে বেরিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, বিজেপি নেতারা বাংলায় এলে যদি তারা ‘বহিরাগত’ হন, তবে তেজস্বী বা কেজরিওয়ালরা কী? যারা ঠিকমতো বাংলা বলতে পারেন না, তাদের দিয়ে প্রচার চালানো কি বাঙালির ‘অস্মিতা’র পরিপন্থী নয়? উল্লেখ্য তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, বিজেপি দিল্লি থেকে নেতা এনে বাংলার সংস্কৃতি অপমান করছে। কিন্তু এখন যখন খোদ তৃণমূলই বিহার বা দিল্লি থেকে ‘ভাড়া করা’ নেতাদের এনে প্রচার চালাচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠছেই তৃণমূলের কি তবে নিজস্ব নেতার আকাল পড়েছে? নাকি কেবল বিজেপির জন্যই ‘বহিরাগত’ নিয়ম প্রযোজ্য?

স্ট্র্যাটেজি না কি বিজেপিকে অন্ধ অনুকরণ? TMC campaign
উল্লেখ্য বিজেপির প্রতিটি চালকে একসময় কড়া ভাষায় বিঁধেছে তৃণমূল। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, বিজেপির প্রতিটি কৌশলকে তারা আক্ষরিক অর্থে অনুকরণ করছে। বলাবাহুল্য বাংলার রাজনীতিতে সেলিব্রেটি বা তারকাদের প্রচারে নামানোর কৌশল প্রথম শুরু করেছিল তৃণমূলই। অন্যদিকে বিজেপির বরাবরের স্টাইল ছিল কেন্দ্রীয় বা জাতীয় স্তরের নেতাদের দিয়ে প্রচার করানো। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল তাদের সেই পুরোনো পথ ছেড়ে পুরোপুরি বিজেপির ছকেই হাঁটছে। বিজেপি যেভাবে জাতীয় নেতাদের গুরুত্ব দেয়, তৃণমূলও এখন সেই একই পথে গিয়ে ভিনরাজ্যের নেতাদের বাংলায় নিয়ে আসছে। এই পদক্ষেপ কি আদতে বিজেপির রণকৌশলকে স্বীকার করে নেওয়া? যে বিজেপিকে তৃণমূল ‘অপমান’ করে এসেছে, আজ তাদেরই প্রচারের ধরন অনুকরণ করা কি এক প্রকার রাজনৈতিক পরাজয় নয়?
শাসকদলের এই ‘ডবল স্ট্যান্ডার্ড’ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ‘অস্মিতা’ বা ‘বাঙালি আবেগ’ তাদের কাছে কেবল একটি স্লোগান মাত্র। যখন দরকার পড়ে, তখন সেই ‘অস্মিতা’ বিসর্জন দিতেও তারা দ্বিধা করে না। বিজেপিকে কটাক্ষ করে এখন সেই বিজেপির রণকৌশলকেই আপন করে নেওয়া কি আসলে তৃণমূলের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই প্রকাশ? উত্তর খুঁজছে বঙ্গবাসী।
