Subhashree Offensive remark
Bengal Liberty, ১ মে :
রাজনীতির ময়দানে নাম লেখানোর পর থেকেই বিনোদন জগতের অনেকেরই যেন ‘মাথা খারাপ’ হওয়ার দশা। এবার সেই তালিকায় নাম জড়াল রাজ-ঘরণী তথা অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীর (Subhashree Offensive remark)। উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলায় ভোট করাতে আসা দাপুটে আইপিএস অফিসার অজয়পাল শর্মাকে নিয়ে শুভশ্রীর মন্তব্য ঘিরে এখন তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। একজন কর্তব্যরত আইপিএস অফিসারকে যেভাবে তিনি অপমান করেছেন, তাকে স্রেফ ‘নিন্দনীয়’ বললেও কম বলা হয়।

অভিনেত্রীর মন্তব্য
যোগীর রাজ্য উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলায় সুষ্ঠু ভোট করানোর দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ আইপিএস অজয়পাল শর্মা। তিনি এখানে নিজের ইচ্ছেয় আসেননি, তাঁকে নির্বাচন কমিশনের অর্ডারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু শাসকদলের নেতার স্ত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলী যেন সব নিয়ম-নীতির ঊর্ধ্বে! তিনি মন্তব্য করেছেন এই আইপিএস অফিসার নাকি শেষ পর্যন্ত ‘মমতা ব্যানার্জীর পায়ের তলাতেই ঠাঁই পাবেন’। এভাবে ব্যক্তিগত চাকর বা ক্রীড়নক ভাবার সাহস শুভশ্রী পান কোথা থেকে? এটা কি স্রেফ তাঁর অহংকার, নাকি টলিউডে কাজ টিকিয়ে রাখার জন্য চাটুকারিতার চূড়ান্ত নির্লজ্জতা?

রাজনৈতিক কটাক্ষ
একজন আইপিএস অফিসার হতে গেলে যে অপরিসীম পরিশ্রম, মেধা এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রয়োজন হয়, তার নূন্যতম ধারণা বোধহয় শুভশ্রী গাঙ্গুলীর নেই। অজয়পাল শর্মার মতো একজন আইপিএস অফিসার যে শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং উচ্চতর ডিগ্রির অধিকারী, সেই উচ্চতায় পৌঁছানো তো দূরস্ত, তার ধারেকাছে যাওয়ার যোগ্যতাও শুভশ্রী কিংবা রাজের নেই ।
আইপিএস পদমর্যাদাকে অপমান করা মানে আসলে সেই কঠিন পরিশ্রম এবং উচ্চশিক্ষা উভয়েরই অবমাননা করা। তবে এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, স্রেফ মমতা ব্যানার্জীর ‘পা চেটে’ এবং চাটুকারিতা করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার নেশায় শুভশ্রী ভুলে গেছেন যে, এই আইপিএস অফিসাররা রাজ্য সরকারের দয়ায় নয়, বরং নিজেদের যোগ্যতা এবং দিল্লির নির্দেশে গুন্ডা দমন করে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে রাজ্যে এসেছেন। একজন দাপুটে অফিসারকে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে শুভশ্রী আসলে নিজের কদর্য মানসিকতা এবং শিক্ষার অভাবকেই প্রকাশ করেছেন। একজনের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আনুগত্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের আদর্শ সেই আইপিএস পদ বা অর্জিত ডিগ্রিকে ছোট করার কোনো অধিকার তাঁর নেই।

শুভশ্রীর এই আচরণ দেখে সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার জন্য কি এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ‘গুড বুকে’ থাকতেই হবে? নিজের কেরিয়ার বাঁচাতে কিংবা রাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক পদ টিকিয়ে রাখতে কি একজন আইপিএস অফিসারকে অপমান করাটা বাধ্যতামূলক? টলিউডের তথাকথিত ‘তারকাদের’ একাংশের মধ্যে এখন মমতা ব্যানার্জীর ‘চটি চাটা’র যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, শুভশ্রী কি সেই দৌড়েই প্রথম হতে চাইছেন?
কাউকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করা বা কোনো দলের হয়ে প্রচার করা যে কারুর গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই অধিকারের নামে একজন আইপিএস অফিসারকে ছোট করা বা তাঁকে অপমান করার লাইসেন্স শুভশ্রী গাঙ্গুলীকে কেউ দেয়নি। তিনি টলিউডের বড় নায়িকা হতে পারেন, কিংবা প্রভাবশালী তৃণমূল বিধায়কের স্ত্রী— কিন্তু আইনের ঊর্ধ্বে তিনি নন। প্রশাসনিক কর্তাদের সম্মান দিতে না জানাটা কেবল অপরাধ নয়, এটি শুভশ্রীর কদর্য রুচির পরিচয়।
অজয়পাল শর্মা উত্তরপ্রদেশের সেই অফিসার, যাঁকে অপরাধীরা যমের মতো ভয় পায়। সেই দুঁদে পুলিশ অফিসারকে নিয়ে শুভশ্রীর মতো অভিনেত্রীর এমন মন্তব্য হাস্যকরও বটে। নিজের ইমেজ তৈরি করতে কি অন্যকে টেনে নামানোই এখন শুভশ্রীর একমাত্র অস্ত্র? টলিউডে কাজ পেতে হলে কিংবা সিনেমা পেতে হলে কি এভাবেই আইপিএস-দের আক্রমণ করে মমতার মন জয় করতে হবে? তবে শুভশ্রী গাঙ্গুলীর এই ঔদ্ধত্য শাসকদলের পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে! আইপিএস অফিসারকে অপমানের ফল আসন্ন সময়ে খুব একটা মধুর হবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
