Fuel Price
Bengal Liberty, ২ মে ২০২৬ :
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ তীব্রতা ছাড়িয়েছে (Fuel Price)। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে গ্যাস ও তেলের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকলকেই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। সব পক্ষের মানুষের সামনেই নাজেহাল অবস্থা। তারই মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির কোপের মুখে পড়ল শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহাসিক এয়ারলাইন্স সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া।

জুলাই থেকে ফ্লাইট বাতিল Fuel Price
এয়ার ইন্ডিয়ার নয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারত-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিনে দিনে মারাত্মকভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার দরুন এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া সংস্থা। এই বছরের জুলাই থেকেই নয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের তীব্রতা ভয়ঙ্করভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তার সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশাধিকারকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে। এতে জ্বালানির দামে ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার সঙ্গে কর্মচারীদের বেতন ও লাগামছাড়া খরচের দরুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যেই ফ্লাইট ওঠা-নামা করছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ রুট বন্ধ থাকার দরুন ঘুরপথেও ফ্লাইট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার দাবি :
এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন জানিয়েছেন – ” এই সময় গোটা বিশ্ব খুবই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মার্চ ও এপ্রিল মাসে কিছু ফ্লাইটের সংখ্যা কমানো হলেও তেমন লাভ হয়নি। জ্বালানির অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণেই আমাদের এই নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। আমরা আমাদের কর্মচারীদের বলব, এই সংকটের মুহূর্তে আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়ান।”
একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়েছে। তার সঙ্গে এমনটাই চলতে থাকলে ক্যাম্পবেল উইলসন, যিনি চলতি বছরের শেষ দিকে পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করেছেন, জানিয়েছেন যে জ্বালানির দাম না কমা পর্যন্ত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা কঠিন হবে।
যাত্রীদের সমস্যা :
যুদ্ধ, জ্বালানির জ্বালা ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি—সবকিছুই এক সূত্রে গাঁথা। জুলাই থেকে ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে সাধারণ মানুষের, যারা ইউরোপ ট্যুর কিংবা আমেরিকা ট্যুরের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। যারা আগে থেকে টিকিট কেটে রেখেছেন, তাঁদেরও টিকিট বাতিলের সম্ভাবনা প্রবল। ফ্লাইটের সংখ্যা কমে গেলে এমনিতেই টিকিটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির বদল আসে? নাকি আরও খারাপ মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।
