Cruise Accident
Bengal Liberty, kolkata:
মধ্যপ্রদেশ পর্যটন দফতরের ক্রুজটি যখন নর্মদার শান্ত বুক চিরে এগোচ্ছিল, কে জানত কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে ধরা পড়েছে সেই হাড়হিম করা মুহূর্ত Cruise Accident। দেখা যাচ্ছে, হু হু করে কেবিনের ভেতর জল ঢুকছে, আর বাঁ দিকে ৩৯ বছর বয়সী মারিনা নিজের লাইফ জ্যাকেটের ভেতর ৪ বছরের সন্তানকে টেনে নিচ্ছেন। প্রবল জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে যখন জাহাজটি একপাশে কাত হয়ে যায়, তখন মারিনা ও ত্রিশান সম্ভবত জাহাজের এয়ার পকেটে আটকে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পর যখন তাঁদের নিথর দেহ উদ্ধার হয়, দেখা যায় মা-ছেলে তখনও একে অপরকে একইভাবে আঁকড়ে ধরে আছেন।

আবহাওয়ার সতর্কতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা Cruise Accident
দুর্ঘটনার মূলে ছিল আবহাওয়ার চরম পূর্বাভাসকে উপেক্ষা করার প্রবণতা। ওই দিন জবলপুর জুড়ে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে আবহাওয়া দফতর আগেই ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে জলাধারে বড় কোনো জলযান বা ক্রুজ চলাচল বন্ধ রাখা বা নিয়ন্ত্রিত রাখা উচিত ছিল। কিন্তু পর্যটন দপ্তরের অধীনে থাকা সত্ত্বেও ক্রুজটি প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে মাঝ-জলাধারের দিকে রওনা দেয়।

প্রশাসনের এই প্রাথমিক গাফিলতিই পর্যটকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।বেঁচে ফেরা পর্যটকদের বয়ান অনুযায়ী, যাত্রা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাতাসের গতিবেগ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। শান্ত জলরাশি উত্তাল হয়ে ওঠে এবং ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়তে থাকে। আতঙ্কিত পর্যটকরা বার বার ক্রুজ চালককে তীরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, চালক সেই সতর্কবার্তা কানে না তুলে বরং অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে জাহাজটি আরও মাঝ-জলাধারের দিকে নিয়ে যান।
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীও পিএমএনআরএফ (PMNRF) তহবিল থেকে অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা সাহায্যের কথা জানিয়েছেন। তবে জবলপুরের এই নীল জলরাশি আজ পর্যটকদের কান্নায় ভারী। প্রশ্ন উঠছে, আর কত প্রাণ গেলে পর্যটন দপ্তরের ঘুম ভাঙবে? আর কত মারিনাকে সন্তান বুকে নিয়ে জলের তলায় হারিয়ে যেতে হবে? উত্তর খুঁজছে গোটা দেশ।
