Election Commission strict order
Bengal Liberty, ৩ মে :
আগামীকাল ৪ মে, সোমবার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন (Election Commission strict order)। কিন্তু গণনার কাজ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই ভোটকর্মীদের জন্য নজিরবিহীন চরম সতর্কবার্তা জারি করল নির্বাচন কমিশন।স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গণনার কাজে কোনওরকম গাফিলতি বা শৈথিল্য দেখা দিলে রেয়াত করা হবে না কাউকেই। সামান্য ভুল বা অসততার প্রমাণ মিললে শুধু বিভাগীয় তদন্ত নয়, সরাসরি চাকরি পর্যন্ত খোয়াতে পারেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মী। ফলতার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার গণনাকেন্দ্রে এক বিন্দু ফাঁক রাখতেও নারাজ দিল্লির নির্বাচন সদন (Election Commission strict order)।

কমিশনের কড়া নজরে গণনাকেন্দ্রের স্বচ্ছতা (Election Commission strict order)
২০২৬-এর এই নির্বাচনে শুরু থেকেই নজিরবিহীন কড়াকড়ি বজায় রেখেছে দিল্লির নির্বাচন সদন। বঙ্গে রেকর্ড ভোট পড়ার পর এবার গণনার দিনটিতেও কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। সরকারি কর্মীদের উদ্দেশ্যে কমিশনের বার্তা, গণনার প্রতিটি ধাপে গাইডলাইন বা নিয়মাবলী অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
ফলতা বিধানসভার উদাহরণে সতর্ক প্রশাসন (Election Commission strict order)
কমিশন সূত্রে খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট চলাকালীন বেশ কয়েকজন প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসারের কাজে বড়সড় গাফিলতি ধরা পড়েছে। সূত্রের খবর, তাঁদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলতার এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই রাজ্যের বাকি গণনাকেন্দ্রের কর্মীদের জন্য আগেভাগেই এই চরম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। কমিশন মনে করছে, কড়া হুঁশিয়ারি থাকলে গণনার সময় মানবিক ত্রুটি বা ইচ্ছাকৃত ভুল অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সুরক্ষার চক্রব্যূহে ইভিএম ও ভোটকর্মীরা (Election Commission strict order)
এই মুহূর্তে রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রং রুম কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিশ্ছিদ্র পাহারায় রয়েছে। আগামীকাল সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ইভিএম বের করে শুরু হবে গণনার কাজ। ভোটকর্মীরা যাতে কোনও প্রকার রাজনৈতিক প্ররোচনায় পা না দেন বা গণনার সময় পদ্ধতিগত ভুল না করেন, সেদিকে নজর রাখতে মাইক্রো-অবজারভারদের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত ভুল প্রমাণিত হলে শুধুমাত্র বেতন কাটা বা বদলি নয়, চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবে না প্রশাসন।
উল্লেখ্য, দুই দফায় ভোট মিটে যাওয়ার পর কমিশনের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ত্রুটিমুক্ত ফলাফল জনগণের সামনে তুলে ধরা। সেই কারণেই ভোটকর্মীদের ওপর এই মানসিক ও আইনি চাপ বজায় রাখা হচ্ছে। একদিকে যেমন স্ট্রং রুম ঘিরে সাজ সাজ রব, অন্যদিকে তেমনি কর্মীদের ওপর এই কড়া নজরদারি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আগামীকালকের গণনায় এক চুলও ছাড় দিতে নারাজ কমিশন।
