Mamata Banerjee
Bengal Liberty, ৬ মে:
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত (Mamata Banerjee)। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বহাল রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। নতুন সরকার গঠন করুক বিজেপি—তবুও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলে স্পষ্ট বার্তা প্রশাসনের (Mamata Banerjee)।

জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বহাল থাকছে (Mamata Banerjee)
পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা প্রত্যাহার বা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে থ্রেট পারসেপশন রিপোর্টের উপর। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই রিপোর্ট তৈরি হয়। সেখানে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলা, রাজনৈতিক প্রভাব, জনসমাগমে উপস্থিতির মাত্রা এবং অতীতের নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হয়। সেই মূল্যায়নে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুঁকির মাত্রা ‘উচ্চ’ বলেই চিহ্নিত হয়েছে।

কাদের দেওয়া হয় এই নিরাপত্তা? (Mamata Banerjee)
ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, “নিরাপত্তা একটি প্রটোকল-ভিত্তিক ব্যবস্থা। সরকার পরিবর্তন হলেও, যাঁদের ক্ষেত্রে উচ্চস্তরের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের নিরাপত্তা কমানো যায় না।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনও রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা পক্ষপাতের বিষয় নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও পেশাগত সিদ্ধান্ত। জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেশের সর্বোচ্চ স্তরের সুরক্ষাগুলির মধ্যে অন্যতম। সাধারণত এই ব্যবস্থায় একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকে—এতে সশস্ত্র কমান্ডো, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, এসকর্ট ভেহিকল, পাইলট কার এবং ২৪ ঘণ্টার নজরদারি অন্তর্ভুক্ত থাকে। বিশেষ করে জনসভা বা সফরের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।

রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের ঝুঁকি (Mamata Banerjee)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় ধরনের ফলাফলের পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাঁর জনসংযোগ ও রাজনৈতিক কার্যকলাপ অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি কমেনি বলেই মনে করছে প্রশাসন। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে। তবে এই ক্ষমতার পরিবর্তনের মাঝেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যে সম্পূর্ণ আলাদা ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেওয়া হয়, এই ঘোষণার মাধ্যমে তা আরও একবার স্পষ্ট হল।
