New government
Bengal Liberty, ৬ মে:
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত শুরু হয়েছে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। সেই সূত্রেই আজ সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ আগরওয়াল এবং রাজ্যের মুখ্য সচিব আজ রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন। new government

লোকভবনে সিইও মনোজ আগরওয়াল new government
ভোট শেষে বুধবার সকালে ২৯৩টি বিধানসভার গেজেট নোটিফিকেশন নিয়ে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ও নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। ওই বৈঠকে তাঁরা নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় গেজেট নোটিফিকেশন জমা দেন। লোকভবন সূত্রে খবর, নতুন সরকার গঠনের আগে নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সমস্ত বিষয় সম্পর্কে রাজ্যপালকে অবহিত করেছেন রাজ্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
সদ্য শেষ হওয়া ২৯৩টি বিধানসভা আসনের ভোটের ফলাফলের তথ্যও রাজ্যপালের কাছে পেশ করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্ব তাঁদের ছিল এবং তা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ফলে এখন সরকার গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে রাজ্যপালের ওপর নির্ভর করছে।
নতুন সরকার গঠন রাজ্যপালের এক্তিয়ারভুক্ত
এদিকে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে। সূত্রের খবর, তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে আগ্রহ দেখাননি। যদিও এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কোনও ভূমিকা নেই বলেই জানানো হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, পুরনো সরকারের মেয়াদ শেষ হলে নতুন সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া রাজ্যপালের এক্তিয়ারভুক্ত। উল্লেখ্য, আজই বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক দিক থেকে কোনও শূন্যতা এড়াতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাধারণত এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা জোটকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। এরপর শপথগ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
সরকার গঠন নিয়ে তৈরী হয়েছে সাংবিধানিক জটিলতা
উল্লেখ্য, নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের হাতেই রাজ্যের রাশ। নির্বাচনের পর কোনও দল বা জোট বিধানসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে রাজ্যপাল তাদের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। কোনও দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে রাজ্যপাল তাঁর বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বৃহত্তম দল বা জোটকে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারেন এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গে এ বার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। তাই নিয়ম অনুযায়ী তাদের সরকার গঠন করার কথা। কিন্তু তৃণমূলনেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় অস্বীকার করেছেন। তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন। অন্য দিকে, সিইও মনোজ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন। অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সিইও।
সব মিলিয়ে, এখন রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে রাজভবনের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। নতুন সরকার কবে শপথ নেবে এবং কে নেতৃত্ব দেবেন—সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই।
