Santhosh K. Nayar
Bengal liberty desk, 6 মে:
মালয়ালম সিনেমার পরিচিত মুখ এবং দক্ষ অভিনেতা সন্তোষ কে. নায়ার আর নেই। মঙ্গলবার (৫ মে, ২০২৬) সকালে কেরলের পত্তনমতিট্টা জেলায় এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। Santhosh K. Nayar

কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? Santhosh K. Nayar
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ তিরুবনন্তপুরম থেকে কোটায়াম যাওয়ার পথে তাঁর গাড়িটির সঙ্গে একটি লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত আদুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শুভশ্রী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চার দশকের অভিনয় জীবন:
১৯৮২ সালে ‘ইথু নাঙ্গালুদে কথা’ (Ithu Njangalude Katha) ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রেখেছিলেন সন্তোষ। দীর্ঘ ৪৪ বছরের অভিনয় জীবনে ১০০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। মূলত খলনায়ক এবং কৌতুক চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করত। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য কিছু ছবি হলো— ‘ধ্রুবম’, ‘লায়ন’, ‘রানওয়ে’ এবং ‘কোচি রাজাভু’। ছোট পর্দাতেও তিনি সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন।
সুপারস্টার মোহনলালের সঙ্গে সম্পর্ক:
সুপারস্টার মোহনলালের সঙ্গে সন্তোষের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল। তিরুবনন্তপুরমের এমজি কলেজে তাঁরা সমসাময়িক ছিলেন। মোহনলাল তাঁকে নিজের ভাইয়ের মতো মনে করতেন। অভিনেতার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে মোহনলাল লিখেছেন, “সন্তোষ আমার কলেজে জুনিয়র ছিল, কিন্তু ও ছিল আমার ভাইয়ের মতো। ওর চলে যাওয়া এক বিশাল ক্ষতি।” অভিনেতা মামুট্টিও তাঁর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোর স্মৃতিচারণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
শেষ ছবি:
সন্তোষ কে. নায়ারের অভিনীত শেষ ছবি ‘ভরতনাট্যম ২: মোহিনীঅট্টম’ (Bharathanatyam 2: Mohiniyattam) বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে চলছে। আগামী ৮ মে থেকে ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে (Netflix) দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে।
তিরুবনন্তপুরমের এক শিক্ষিত পরিবারে জন্ম নেওয়া সন্তোষ অভিনয়ের নেশায় গণিতের উচ্চশিক্ষা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে সিনেমাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি।
